সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় শিশুসহ আহত ১১ জন, বড় হামলার আশঙ্কায় রিয়াদ

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৪

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। একইসঙ্গে সৌদি আরব সতর্ক করেছে যে, হুথি ও ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়ারা শিগগিরই সমন্বিতভাবে আরও বড় হামলা চালাতে পারে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

আজ ভোরে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি ভোরে জানান, বৃহস্পতিবার নজরান প্রদেশে চালানো হামলায় সাতজন সৌদি, একজন ইয়েমেনি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।

ইরান-সমর্থিত হুথিরা নির্বিচারে বেসামরিক এলাকায় গোলাবর্ষণ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করে আল-মালিকি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

যদিও এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হুতি কিংবা ইরানের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে বিগত পাঁচ মাস ধরে চলমান সংঘাত সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তেহরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে রিয়াদের দীর্ঘদিনের সংঘাত এখন বৃহত্তর আঞ্চলিক সংকটের অংশে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরে হুথিদের অবরোধের কারণে সৌদি তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

সৌদি আরবের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সৌদি, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর তত্ত্বাবধানে হুথি ও ইরাকি মিলিশিয়ারা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা, বন্দর ও বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় সমন্বিত হামলা চালাতে পারে।

এমতাবস্থায় সৌদি আরব তার গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এরই মধ্যে গতকাল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানেরও আজকে দেশটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে, গত মঙ্গলবার সৌদি আরবের নাজরান বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করে হুতিরা। সাম্প্রতিক সময়ে তারা সৌদি আরবের সামরিক স্থাপনা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে।

পাশাপাশি গতকাল ইয়েমেনের মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি-সমর্থিত সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়ে ৩০ জনের বেশি ইয়েমেনি সেনাকে হত্যার দাবি করেছে হুতিরা।

 

ইত্তেফাক/এনটিএম