‘এই রকম এতিম দশায় ওপেন করা হইলো কেন’—প্রশ্ন ফারুকীর

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৬

পর্যাপ্ত জনবল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় পরিচালনাগত প্রস্তুতি নিশ্চিত না করেই জুলাই জাদুঘর দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জাদুঘরটি চালুর প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ফারুকীর ভাষ্য, পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই না করে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়টি তার কাছে বিস্ময়কর। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মূল্যবান নিদর্শন সেখানে সংরক্ষিত থাকায় তিনি বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

পোস্টে ফারুকী লেখেন, ‘ইয়েস, জুলাই নিয়ে মানুষের আগ্রহ আমাদের অনুপ্রাণিত করে। কিন্তু এই যাদুঘরে শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন আছে, অনেক ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্ট আছে। এভাবে যদি মিউজিয়াম অ্যাকসেস দেওয়া হয় তাহলে বহু জিনিস নষ্ট হয়ে যাবে। এমন অনেক জিনিস আছে, যেটি একবার নষ্ট হলে আর পাওয়া যাবে না।’

জাদুঘরে দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ফারুকী। তার মতে, পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা ছাড়া দর্শনার্থীদের প্রবেশ করানো হলে তারা স্বাভাবিক ও সুশৃঙ্খলভাবে প্রদর্শনীগুলো উপভোগ করতে পারবেন না। এতে দর্শনার্থীদের জন্যও পুরো বিষয়টি অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

তিনি লেখেন, ‘যে ভিজিটর এভাবে দেখতে বাধ‍্য হন, তিনি মিউজিয়ামের প্রপার এক্সপেরিয়েন্স কীভাবে পাবেন? ভিজিটরের জন‍্যও তো এটা একটা শাস্তি।’

সরকারের সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি লেখেন, ‘এই পাঁচ মাস কি পর্যাপ্ত ছিল না মিউজিয়ামের অপারেশনাল দিক ঠিক করার? ইটস রিয়ালি হার্টব্রেকিং। প্লিজ আপনারা জরুরি উদ্যোগ নিয়ে মিউজিয়ামটা প্রপারলি অপারেশনাল করেন। এই যাদুঘর কেপিআই ওয়ানভুক্ত ইনস্টলেশন। এরকম সেনসিটিভ ইনস্টলেশন এইরকম এতিম দশায় ওপেন করা হলো কেন? সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর সত‍্যিকারের উদ্যোগী হলে এতোদিনে প্রপার ভাবেই ওপেন করা যেত।’

প্রয়োজনে জাদুঘরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার মহড়া এবং প্রয়োজনীয় পরিচালনাগত প্রস্তুতি শেষ করার পরই জাদুঘরটি আবার দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া উচিত।

 

 

ইত্তেফাক/এসজেএস