বাঁধনের ওপর হামলা প্রসঙ্গে ফারুকীর প্রশ্ন

সরকারের ভেতরে কারা ফ‍্যাসিবাদের সফট পাওয়ারকে স্পেস দিচ্ছে?

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৪৭

সরকারের ভেতরে থেকেই কারা আওয়ামী লীগের ‘সফট পাওয়ার’কে জায়গা দিচ্ছে এবং তাদের ক্ষমতায়ন করছে, তা খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান। একই পোস্টে ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।

ফারুকী লিখেছেন, আওয়ামী লীগ এখনো কোনো ধরনের অনুশোচনা ছাড়াই দেশে-বিদেশে ‘জঙ্গি আচরণ’ চালিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের পুনর্বাসনের পক্ষে যারা গণমাধ্যমে লেখালেখি করেছেন এবং তাদের বক্তব্য প্রচারে জায়গা দিয়েছেন, তাদেরও এর দায় নিতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, গণহত্যার ‘সম্মতি উৎপাদনকারী’ ও সমর্থকদের টেলিভিশন মাধ্যমে সুযোগ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও অন্য রাজনৈতিক পক্ষকে একই পাল্লায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি শেখ হাসিনা ভারত থেকে রাজনীতি করতে পারবেন কি না—এ ধরনের বক্তব্য প্রচারের সুযোগও দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ফারুকীর ভাষ্য, জুলাইয়ের আন্দোলনের পক্ষের শক্তিগুলোর অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী ও বিএনপি সরকারের একটি অংশের দায় রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, বুদ্ধিবৃত্তিক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিচার বা তিরস্কারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘কনসেন্ট উৎপাদনকারীদের’ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের কোনো কমিশনের সামনে এনে জবাবদিহির মুখোমুখি না করায় তারা দেশে বসে নানা বক্তব্যের মাধ্যমে বিদেশে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উৎসাহ জোগাচ্ছে।

সরকারের ভেতরে কারা ক্ষমতায়ন করছে, প্রশ্ন ফারুকীর
ফারুকী আরও বলেন, বিএনপি সরকারের একটি অংশ গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আওয়ামী লীগ ও সিআরআইয়ের প্রভাবাধীন করে দিচ্ছে। তার মতে, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির কথা বলার পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সংস্কৃতিতে আওয়ামী লীগ ও সিআরআইয়ের প্রভাব থাকা ‘অবিশ্বাস্য কম্বিনেশন’।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, ‘আপনি চাইলে একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন, সরকারের ভেতরে বসে কারা ফ্যাসিবাদের সফট পাওয়ারকে স্পেস দিচ্ছে, কারা কারা তাদের এমপাওয়ার করছে।’

সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ‘কালচারাল লীগ’ ও ‘মিডিয়া লীগ’-এর বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের আলোচনা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এসব পরিকল্পনা কীভাবে গণমাধ্যমে প্রচারণা হিসেবে আসে এবং এর পেছনে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা কাজ করে, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান ফারুকী।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাকে সাধারণ সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। তার দাবি, জুলাইয়ে গণহত্যা হয়েছে এবং তার আগে ১৬ বছর ধরে গুম-খুনসহ নানা ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি অংশ এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং ‘বুদ্ধিবৃত্তিক অপরাধের’ জন্য তিরস্কারের ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানান ফারুকী। পাশাপাশি এ ধরনের ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন বা তারকা বানানো থেকে বিরত থাকার কথাও বলেন তিনি।

বাঁধনের ওপর হামলার প্রসঙ্গ
পোস্টের শেষ দিকে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের উদ্দেশে ফারুকী লেখেন, ‘মনোবল হারাবেন না, বাঁধন।’

এর আগে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইতালিতে হেনস্তা ও হামলার শিকার হন বাঁধন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাতে ইতালির একটি সড়কে কয়েকজন বাঙালি যুবক তার দিকে পানি ও কোমল পানীয় ছুড়ে দিচ্ছেন। এ সময় একজন তাকে মারতে উদ্যত হন।

পরে ফেসবুক লাইভে বাঁধন জানান, ভেনিসে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে একটি পার্কে যাওয়ার পর একদল প্রবাসী বাঙালি তার সঙ্গে শারীরিকভাবে হেনস্তামূলক আচরণ করেন। তার অভিযোগ, হামলাকারীরা তার গায়ে হাত তোলেন, ফোন কেড়ে নিয়ে ফেলে দেন এবং কানের পাশে আঘাত করেন। এ সময় তার ভাইয়ের ছোট শিশুটিও ভয় পেয়ে চিৎকার করছিল বলে জানান তিনি।

বাঁধনের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের প্রতি তার সমর্থনের কারণে ভেনিস আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পরিচয়দানকারী কয়েকজন নেতাকর্মী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

 

 

ইত্তেফাক/এসজেএস