আদরের পোষা বিড়ালকে ভালোবাসা জানানোর দিন আজ

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩:২৪

বিশ্বে বর্তমানে পোষা প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিড়াল। নানা ভঙ্গিমায় আদর-আহ্লাদ আর খেলাধুলায় মায়ার বাঁধনে জড়ায় এই ছোট প্রাণীটি। আজ এই আদুরে প্রাণীটির জন্য বিশেষ দিন। প্রতিবছর ৮ আগস্ট পালন করা হয় বিশ্ব বিড়াল দিবস। ২০০২ সালে সর্বপ্রথম ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার সংস্থার উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে এ দিবসটি।

যাদের বাড়িতে বিড়াল আছে, তারা হয়তো এমনিতেই তাদের রাজকীয় সম্মান দিয়ে থাকেন। তবে আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবস তাদের আরেকটু বেশি আদর করার একটি চমৎকার উপলক্ষ। 

বিশেষ এ দিনটিতে বিড়ালদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন বিভিন্ন পেট শপে। যেখান থেকে কিনে দিতে পারেন আপনার বিড়ালের পছন্দের খেলনা, খাবার, বেল্ট, শ্যাম্পু, ব্রাশ, পেস্ট। কিনে আনতে পারেন তুলতুলে বিছানা। ঘুরে আসতে পারেন বিভিন্ন পেট রেস্টুরেন্ট থেকেও। যেখানে শখের বিড়ালের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাতে পারেন।

জোজো

ধারণা করা হয়, বিশ্বে নানা প্রজাতির প্রায় ৫০ লাখ বিড়াল আছে। মাংসাশী এই তুলতুলে প্রাণীকে ভালোবেসে ঘরে জায়গা দিয়েছে সারা দুনিয়ার মানুষ, যদিও এগুলোর আদি বাস আফ্রিকায়।

বিড়াল সম্পর্কে প্রথম ঐতিহাসিক রেকর্ড প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার সংস্কৃতিতে পাওয়া যায়। মিসরীয়রা বিড়ালকে দেবতা মানত, পূজা করত।

মাফডেট নামে এক বিড়াল দেবতাকে সে সময়কার মিসরীয়রা সাপ, বিচ্ছু এবং খারাপ কিছুর বিরুদ্ধে রক্ষক হিসেবে মনে করত।

মিসরীয় রাজবংশের পতন হলেও বিড়াল ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে বিশ্বব্যাপী। গ্রিক এবং রোমানরা কীটপতঙ্গ থেকে রক্ষা পেতে পুষত বিড়াল। প্রাচ্যে মূলত ধনী ব্যক্তিরা বাড়িতে বিড়াল রাখতেন।

মধ্যযুগে বিড়াল নিয়ে নানা কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপে। ১৩৪৮ সালে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া ব্ল্যাক ডেথের বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হতো বিড়ালকে। এ কারণেই সেই যুগে বিড়াল হত্যা অনেক বেড়ে যায়। তবে ১৬০০ দশকের পর বদলাতে থাকে দৃষ্টিভঙ্গি।

আমেরিকায় পোকামাকড় এবং রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য ঔপনিবেশিক জাহাজে বিড়ালের দেখা মিলত। আধুনিক সমাজে এখন বিড়াল পোষা রীতিমতো শখে পরিণত হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার নামে একটি সংগঠন ২০০২ সাল থেকে আগস্টের প্রথম সোমবার অর্থাৎ আজকের দিনটিতে বিড়ালদের ছুটিও ঘোষণা করেছে।

আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবসে তাই বিড়াল বাড়তি আদরযত্ন চাইতেই পারে। তবে বছরের বাকি দিনও যে ওদের নয়, সেটা ভাবার কোনো কারণ নেই। আপনি না চাইলেও পোষা বিড়াল ঠিকই জানে কোন কৌশলে আপনার মনোযোগ কেড়ে নিতে হয়।

বিড়াল পালনে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি

টক্সোপ্লাজমোসিস: এটি একটি পরজীবী, যা বিড়ালের মলের মাধ্যমে ছড়ায় এবং মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। গর্ভাবস্থায় এ রোগটি মায়ের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

অন্যান্য পরজীবী সংক্রমণ: বিড়ালের শরীরে উকুন, ফ্লি বা অন্যান্য পরজীবী থাকতে পারে, যা মানুষের ত্বকে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ: কিছু ব্যাকটেরিয়া বিড়ালের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে, যেমন সালমোনেলা বা ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর।

ভাইরাসঘটিত রোগ: যদিও বিড়াল থেকে মানুষের মধ্যে ভাইরাসঘটিত রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি কম, তবে কিছু ক্ষেত্রে তা হতে পারে।

বিড়াল পালনে অ্যালার্জির ঝুঁকি: বিড়ালের লোম, লালা এবং মৃত চামড়া থেকে অ্যালার্জেন তৈরি হতে পারে, যা অ্যালার্জি, হাঁপানি এবং শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে।

করণীয়

নিয়মিত বিড়ালের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো।

বিড়ালের লিটার বক্স পরিষ্কার করার সময় গ্লাভস এবং মাস্ক ব্যবহার।

বিড়ালের সঙ্গে খেলার পর হাত ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।

অন্তঃসত্ত্বাদের বিড়ালের সংস্পর্শে আসার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা।

বিড়ালকে নিয়মিত গোসল করানো এবং লোম পরিষ্কার রাখা।

শিশুরা বিড়ালের সংস্পর্শে আসার পর হাত পরিষ্কার রাখা জরুরি।

বিড়ালের ভালোবাসার ধরন একেক রকম

সব বিড়াল একইভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করে না। কোনোটি হয়ত সারাক্ষণ মালিকের পাশে থাকতে চাইবে, আবার কোনোটি কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেও নিজের মতো করে সঙ্গ দেবে। কেউ কোলে উঠতে ভালোবাসবে, কেউ আবার একই ঘরে চুপচাপ বসে থাকাকেই যথেষ্ট মনে করবে। তাই একটি আচরণ দেখেই বিড়াল আপনাকে ভালোবাসে কি না, এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক নয়। তার সামগ্রিক শরীরী ভাষা, দৈনন্দিন অভ্যাস এবং আপনার সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার ধরন লক্ষ্য করাই ভালো।

বিড়ালের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে তার ব্যক্তিগত সীমা ও পছন্দকে সম্মান করাও জরুরি। সে যখন কাছে আসতে চায়, তখন আদর করুন। আবার একা থাকতে চাইলে, তাকে সেই সুযোগ দিন। জোর করে কোলে নেওয়া বা বিরক্ত করা এড়িয়ে চললে আপনার প্রতি তার আস্থা আরও বাড়তে পারে।

 

 

 
ইত্তেফাক/এনটিএম