অবশেষে পূর্ণতা পাচ্ছে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৪:০২

২০০৮ সালে জেলা সদর হাসপাতালের একটি ভবনে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে যাত্রা শুরু করলেও ১৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গ টিচিং হাসপাতাল পায়নি কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ (কমেক)। এবার ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আবাসন, নার্সিং ডরমিটরি, স্টাফ কোয়ার্টার, মসজিদসহ ২৬টি অবকাঠামোর কাজ একসঙ্গে এগোতে শুরু করায় প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণতার পথে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে কক্সবাজারের প্রায় ২৮ লাখ বাসিন্দা, ১২ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা এবং পর্যটকদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট কাটাতে এখন জোরালোভাবে কাজ চলছে ৫০০ শয্যার হাসপাতালসহ একাধিক স্থাপনায়। হাসপাতাল ভবনের পাশাপাশি ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভবন, নার্সিং ডরমিটরি, কলেজ ভবন, স্টাফ কোয়ার্টার, মসজিদসহ মোট ২৬টি ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব ভবন চালু হলে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা প্রশিক্ষণ ও বাস্তবমুখী অভিজ্ঞতা অর্জনের বেশি সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে চিকিৎসাবঞ্চিত জেলার মানুষের পাশাপাশি পর্যটকদেরও কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৬ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তবে আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে তখন নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। পরে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও পরিবর্তনের অংশ হিসেবে হাসপাতাল ভবনসহ আরও ২৬টি স্থাপনার কাজ শুরু হয়। গত এক বছরে বেশ কয়েকটি ভবন বহুতল পর্যন্ত উঠেছে। হাসপাতাল ভবনের প্রথম তলার কাঠামোও এখন দৃশ্যমান।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে নির্মাণাধীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রকল্পে নতুন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়, যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নামে স্থাপিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন বাস্তবায়ন না হওয়া এই হাসপাতাল ভবনের প্রকল্প অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার অনুরোধে অনুমোদন দিয়েছে। সেই কারণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সুযোগ তার ভাগ্যে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ২০০৮ সালে জেলা সদর হাসপাতালের একটি ভবনে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে যাত্রা শুরু করে। পরে কলেজটির তৃতীয় অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিমের দায়িত্বকালে ২০১৭ সালে এটি সীমিত পরিসরের অস্থায়ী ব্যবস্থাপনা থেকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে ফেরে। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ১৮টি ব্যাচ পার করেছে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার কৃতিত্বও রয়েছে কলেজটির। ইতোমধ্যে ১৪টি এমবিবিএস ব্যাচ বের হয়েছে। প্রতিবছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও কাটেনি অবকাঠামো, শিক্ষক ও হাসপাতাল সংকট।

প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ১৮ বছর পরও কলেজটি নিজস্ব ৫০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল পায়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লিনিক্যাল ক্লাস করতে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে জেলা সদর হাসপাতালভিত্তিক অস্থায়ী টিচিং ক্যাম্পাসে যেতে হয়। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিও বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, শুধু এই যাতায়াতের কারণেই বছরে প্রায় ৫৯৮ ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

কক্সবাজার জেলায় প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জন্য জেলা সদরে বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল। সেখানে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নেন এবং ৭০০ থেকে ১ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। শয্যা সংকটের কারণে অতিরিক্ত রোগীদের ফ্লোর, করিডোর বা সিঁড়ির পাশেও অবস্থান করতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রায় ১২ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার চাপ। পাশাপাশি হেমাটোলজি, হেপাটোলজি, সাইকিয়াট্রি, নিউরোমেডিসিন, নিউরোসার্জারি, এনআইসিইউসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে সংকট রয়েছে। কোনো বিশেষায়িত বার্ন ইউনিটও নেই। এ কারণে অনেক রোগীকেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা ঢাকায় পাঠাতে হয়। কিন্তু শত শত কিলোমিটার দূরত্ব এবং অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেক রোগীর পক্ষে অন্যত্র যাওয়া সম্ভব হয় না। সংশ্লিষ্টদের মতে, সব সুবিধাসহ কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতালটি আগেই চালু হলে এই সংকটের বড় অংশ লাঘব করা যেত।

কমেকের শিক্ষার্থীরা বলছেন, চিকিৎসা শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) বিধি অনুযায়ী, প্রতিটি মেডিকেল কলেজের জন্য একটি টিচিং হাসপাতাল থাকা বাধ্যতামূলক। তৃতীয় বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের হাসপাতালের ওয়ার্ড ডিউটি করতে হয়। কিন্তু কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ১৮ বছরেও স্বতন্ত্র হাসপাতাল সুবিধা পায়নি। একই কারণে জেলার মানুষও কমেক হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত থেকেছেন। ২০১৭ সালের ৬ মে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরও নানা জটিলতায় হাসপাতাল ভবনের কাজ শুরু না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়েছেন বলে তাদের অভিযোগ।

কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কলেজের পাঠদান শুরু হলেও হাসপাতালের কার্যক্রম বছরের পর বছর ঝুলে ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, জাতিসংঘ মহাসচিবকে সঙ্গে নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কক্সবাজার সফরের আগের দিনও শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেন। ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেন এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপিও দেন।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, আধুনিক মেডিকেল কলেজের নাম থাকলেও যাতায়াতের জন্য তাদের কাছে রয়েছে মাত্র দুটি সাধারণ বাস। শিক্ষক সংকট যেমন প্রকট, তেমনি রয়েছে আবাসন সংকটও। পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপেক্ষায় ১৪টি ব্যাচ বিদায় নিয়েছে। একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল এবং অন্তত ২০টি বিভাগে চিকিৎসাসেবা থাকার কথা, কিন্তু এসবের পূর্ণাঙ্গ কোনো সুবিধাই এখনো পায়নি কমেক। অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের অধিকাংশ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। ওএসডি ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক সংযুক্ত করা হলেও মূলত জুনিয়র শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করেই জোড়াতালি দিয়ে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হয়েছে।

অবকাঠামো সংকটও কম নয়। ১০ তলা হওয়ার কথা থাকা একাডেমিক ভবন নির্মিত হয়েছে ৬ তলা পর্যন্ত। দুটি ছাত্রাবাসের ৬ তলা করে হওয়ার কথা থাকলেও সেগুলো দীর্ঘদিন ৩ তলা পর্যন্ত সীমিত ছিল। কক্ষসংকটে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে গণরুমে থাকতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মতে, সদর হাসপাতালের অস্থায়ী টিচিং ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন বা গবেষণার পরিবেশ তৈরি হয়নি। এতে চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণও ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক এলেও পর্যটনকেন্দ্রিক উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে তাদেরও ঝুঁকিতে পড়তে হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী কমেক হাসপাতালটি স্থাপিত হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স এবং অন্যান্য জনবলের নতুন পদ সৃষ্টি হবে। চিকিৎসকদের কোয়ার্টার, ইন্টার্ন হোস্টেল, ডক্টরস ডরমিটরি, নার্স ডরমিটরি, অধ্যক্ষের বাসভবন, পরিচালকের বাসভবন এবং স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট সবার ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। একইসঙ্গে পর্যটন নগরীতে তুলনামূলক কম খরচে এমআরআই, সিটি স্ক্যান, এনজিওগ্রাম, ডায়ালাইসিস, আইসিইউ, সিসিইউ এবং জটিল রোগ নির্ণয়ের আধুনিক সুবিধা চালুর পথও তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কলেজ সূত্র জানায়, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজার জানার ঘোনায় ৩৩ একর জায়গাজুড়ে কমেকের স্থায়ী ক্যাম্পাস অবস্থিত। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়। কলেজে একজন অধ্যক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ৮৯টি শিক্ষক পদ রয়েছে। কিন্তু অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকসহ নানা পদ এখনো শূন্য। তবু অপর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়ে চলা এই কলেজ ফাইনাল পরীক্ষায় চট্টগ্রামের ১৪টি মেডিকেল কলেজের মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে থেকেছে। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি কর্মচারী সংকটও রয়েছে, যা একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে প্রভাব ফেলছে।

কমেকের সংক্রামক রোগ ও ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাহান নাজির বলেন, কক্সবাজারে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সংকট দীর্ঘদিনের। এর সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বাড়তি চাপ রয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গা মিলিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ অত্যন্ত বেশি। তাই কমেকে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মিত হলে চিকিৎসাজট কমবে, সেবার মান বাড়বে এবং রোগীদের চট্টগ্রাম বা ঢাকায় যেতে হবে না।

কক্সবাজার উন্নয়ন আন্দোলনের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ রুবেল বলেন, জেলা সদর হাসপাতালে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদেরও চিকিৎসা দিতে হয়। এ ছাড়া কক্সবাজারে প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটক আসেন। সব মিলিয়ে ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালের সক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। তার ভাষায়, যেখানে নির্ধারিত আসনের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকেন, সেখানে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এ অঞ্চলের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে।

স্থানীয় সমাজকর্মী তারেক আরমানের মতে, হাসপাতালটি নির্মাণ শেষ হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা চট্টগ্রামে যাওয়ার চাপ অনেকটাই কমবে। এতে জেলা সদর হাসপাতালের ওপর চাপও কমবে। তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হলে এখানে সিসিইউ, আইসিইউ ও কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের মতো সেবাও গড়ে উঠবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাস, গবেষণা এবং অন্যান্য উন্নত শিক্ষা কার্যক্রমও হাতের নাগালে চলে আসবে।

কমেকের সহযোগী অধ্যাপক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. নুরুল আলম বলেন, ৫০০ শয্যার এই হাসপাতাল শুধু কলেজের জন্য নয়, পুরো জেলাবাসীর জন্য সরকারের একটি বিশেষ উপহার হবে।

কমেকের অধ্যক্ষ ডা. মুজিবুল হক বলেন, কমেকে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের পর ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে ৪ লাখের বেশি আরটিপিসিআর পরীক্ষা হয়েছে, যা দেশে বিরল। তার মতে, কমেক হাসপাতাল পূর্ণতা পেলে কক্সবাজারের চিকিৎসাসেবা বহুলাংশে এগিয়ে যাবে।

গণপূর্ত বিভাগ কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী জানান, ‘এস্টাবলিশমেন্ট অব ৫০০ বেডেড মেডিকেল কলেজ হসপিটাল অ্যান্ড এনসিলারি বিল্ডিং ইন যশোর, কক্সবাজার, পাবনা অ্যান্ড নোয়াখালী (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় কমেকের ১০ তলা হাসপাতাল ভবনের কার্যাদেশ ২০২৫ সালের ২৯ জুন দেওয়া হয়। তার ভাষ্য, গণপূর্ত বিভাগের অধীন চলমান হাসপাতাল ভবনের পাইলিং কাজ শেষ হয়েছে এবং সব ব্লকেই দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ এগোচ্ছে। তিনি আরও জানান, হাসপাতাল ছাড়াও ছাত্র-ছাত্রী হোস্টেলের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, পুরুষ ইন্টার্ন ডরমেটরি, নারী ইন্টার্ন ডরমেটরি, ৬ তলা অফিসার্স কোয়ার্টার, স্টুডেন্ট নার্সেস কোয়ার্টার, স্টাফ ডরমেটরি, স্টাফ নার্সেস ডরমিটরি, প্রিন্সিপাল ও ডিরেক্টর রেসিডেন্স এবং স্টাফ কোয়ার্টার ভবনগুলোর কাজও চলছে। চুক্তি অনুযায়ী, হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ ২০২৮ সালের জুনে এবং অন্য ভবনগুলোর কাজ ২০২৭ সালের বিভিন্ন সময়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল অস্থায়ী ব্যবস্থায়, জেলা সদর হাসপাতালের একটি ভবনে। স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর, ব্যাচ বৃদ্ধি, পরীক্ষায় সাফল্য এবং পিসিআর ল্যাবের মতো সক্ষমতা অর্জন সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন নিজস্ব টিচিং হাসপাতাল, পূর্ণাঙ্গ শিক্ষকসংখ্যা, ছাত্রাবাস এবং পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। এ কারণে একদিকে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা ব্যাহত হয়েছে, অন্যদিকে জেলার সাধারণ মানুষও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাননি। এখন ৫০০ শয্যার হাসপাতালসহ ২৬টি স্থাপনার কাজ দৃশ্যমান অগ্রগতি পাওয়ায় দেড় যুগের অপেক্ষার পর কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পূর্ণতা পাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন