সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতি থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৫৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির হাত থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে হবে। এগুলো একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। যে যখন যেখানে দায়িত্ব পালন করবেন এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। আমরা যথেষ্ট দক্ষতার সাথে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। কিন্তু অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। সামাজিক ব্যাধিমুক্ত দেশ গড়তে প্রশাসন ক্যাডারের নবীন কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শাহবাগস্থ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে ১০৭, ১০৮ ও ১০৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘দেশের মানুষ যেন নিজেদের ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে সেটাই আমরা চাই। যে সরকারই ক্ষমতায় আসে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা যেন অব্যাহত রাখে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক ঘাত-প্রতিঘাত ও বাধা অতিক্রম করে বাংলাদেশকে সফলতার এই পথে এগিয়ে নিতে পেরেছি। এই সফলতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। সবার কাছে সেই দাবি করে যাচ্ছি, যদি এতটুকু ভাল কাজ কারো জন্য করে থাকি তাহলে সবার প্রতি আহ্বান, উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখবেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি এমন জায়গায় দেশকে রেখে যাচ্ছি যেন বাংলাদেশকে আর পেছন ফিরে তাকাতে না হয়। সামনের দিকে যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে সে অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সরকারি কর্মচারিদের বেতন-ভাতা এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘এটা আমরা এজন্যই করেছি যেন দেশের সেবাটা আপনারা ভালোভাবে করতে পারেন।’ তিনি এই বেতন-ভাতা বৃদ্ধিকে পৃথিবীতে নজীরবিহীন উল্লেখ করে বলেন, তার দেশের অর্থনীতিটা একটা শক্ত ভীতের ওপর দাঁড়িয়েছে বলেই এগুলো করা সম্ভব হয়েছে। তিনি হলুদ সাংবাদিকতার সমালোচনা করে বলেন, পত্রিকায় এটা ওটা লেখা হয়, আর আমাদের অনেকেই সেটা নিয়ে ঘাবরিয়ে যায়। আমি অন্তত এটুকু বলতে পারি রাষ্ট্র পরিচালনায় পত্রিকার লেখা পড়ে গাইড লাইন গ্রহণ করি না। আমি গ্রহণ করি আমাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা এবং নিজস্ব পরিকল্পনা। তবে পত্রিকা থেকে তিনি খবর এবং তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন বলেও ইঙ্গিত দেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশটা আমার, আমার দেশকে আমি চিনি, আমি জানি দেশের জন্য কোনটা ভালো হবে। আর যেহেতু রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আছি তখন অবশ্যই জানবো কোথায় কি সমস্যা আছে, কোথায় কি করতে হবে।

তিনি বলেন, ২০৭১ সালে যখন আমরা স্বাধীনতার শতবার্ষিকী উদযাপন করবো এবং সেই পর্যন্ত আমাদের পরিকল্পনা থেকে যাবে যেন আগামী প্রজন্ম সেই শতবার্ষিকী ভালোভাবে উদযাপন করতে পারে। তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সিভিল প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ২০৪১ সাল পর্যন্ত দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সৈনিক এখানেই প্রস্তুত। আমরা হয়তো ততদিন বাঁচবো না কিন্তু আপনারাই তখন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এটা আপনাদেরই দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে আমি আহ্বান জানাচ্ছি। শেখ হাসিনা এসব কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের মানুষকে ভালোবেসে সবাইকে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে। সততাই শক্তি। আর দেশের মানুষের প্রতি কর্তব্যবোধ এবং দায়িত্ববোধ নিয়েই কাজ করতে হবে।

জন প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক এবং জন প্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। ১০৭, ১০৮ ও ১০৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের রেক্টর পদক বিজয়ী শ.ম. আজহারুল ইসলাম সনেট, শরিফ আসিফ রহমান এবং মো. মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে অনুভূতি ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী পরে সিভিল প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং বিসিএস প্রশিক্ষণ একাডেমির নবনির্মিত প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন করেন।