পঞ্চগড়ে দুই দিনের মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল শিখন কার্যক্রম সম্পন্ন

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৩৩

পঞ্চগড় জেলার চারটি উপজেলার ২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ জন গণিত শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘খান একাডেমি বাংলাদেশ মাস্টারক্লাস’ শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) মাধ্যমিক শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল শিখন কার্যক্রম শেষ হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), সাজেদা ফাউন্ডেশন এবং কাজী ফার্মস গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে তেঁতুলিয়ার ইকো মহানন্দা কটেজে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী গণিত শিক্ষকেরা কীভাবে শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘খান একাডেমি বাংলাদেশ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গণিত শিক্ষাকে সহজ ও আনন্দদায়ক করা যায়, সে বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকেরা প্ল্যাটফর্মের মনিটরিং ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে বিদ্যালয়ভিত্তিক অগ্রগতি ও পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন।

প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে ‘খান একাডেমি’ প্ল্যাটফর্ম নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনার জন্য ডিজিটাল যন্ত্রপাতি মেরামত সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মাউশির রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেকশনের উপ-পরিচালক নাহিদা পারভিন বলেন, ‘নিজে গণিতের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হিসেবে আমি গণিতের প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে উপলব্ধি করি। গণিত এমন একটি বিষয় যেখানে একটি কনসেপ্ট না বুঝলে পরের কনসেপ্ট বোঝা যায় না। তাই বুঝে শেখা অত্যন্ত জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ও সকল অংশীজন মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। পঞ্চগড়ের মতো প্রান্তিক অঞ্চলে এই ধরনের উদ্ভাবনী প্রকল্প পরিচালনার জন্য আমি আয়োজকদের বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। উন্নয়নকে শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক না করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।’

স্বাগত বক্তব্যে খান একাডেমি বাংলাদেশের সিইও আজওয়া নাঈম প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি-সহায়ক ক্লাসরুম তৈরিতে খান একাডেমি প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকেরা যেন সহজেই এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গণিতে পারদর্শিতা অর্জন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমরা সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।’

পঞ্চগড়ে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য কাজী ফার্মসকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভজনপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ট্র্যাক করে সব শিক্ষার্থীকে গণিতে মাস্টার্ড বা পারদর্শী স্তরে উন্নীত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

কাজী ফার্মস গ্রুপের ডিরেক্টর কাজী জিসান হাসান বলেন, ‘কাজী ফার্মস ব্যবসার পাশাপাশি শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে চায়। পঞ্চগড়ে আমাদের একাধিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম থাকায় দেশের এই প্রান্তিক ও দূরবর্তী অঞ্চলেও মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে আমরা অবদান রাখতে পেরে আনন্দিত।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে মাউশির প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট উইংয়ের রিসার্চ অফিসার জিসান, পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা অফিসার খায়রুল আনাম মো. আফতাবুর রহমান হেলালী, সাজেদা ফাউন্ডেশনের পার্টনারশীপ ও ফান্ড রেইজিং ইউনিটের ম্যানেজার রামিযা আহমেদ, কাজী ফার্মস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার খন্দকার আহমেদ আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং অন্যান্য স্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাজেদা ফাউন্ডেশন ও কাজী ফার্মসের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় এবং মাউশির অনুমোদনে বর্তমানে ঢাকা, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, চাঁদপুর ও পঞ্চগড়—এই সাতটি জেলার মোট ১০০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘খান একাডেমি বাংলাদেশ’ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ইত্তেফাক/এসএইচ