আজহার মাহমুদ
আমাদের অর্থনীতিতে সম্ভাবনাময় বড়ো খাতের একটি চামড়া শিল্প। বর্তমানে চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা দেশে এবং দেশের বাইরে প্রচুর বিদ্যমান। চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। কিন্তু এজন্য শিল্পটিকে হতে হবে পরিবেশবান্ধব। একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলে আয়ের খাতগুলোর যেমন যথাযথ তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হয়, তেমনি সম্ভাবনাময় খাতগুলোর উন্নয়নেও ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। সন্দেহ নেই, বাংলাদেশের জন্য চামড়া শিল্প অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত, যা সুষ্ঠু পরিচালনা ও যথাযথ উদ্যোগের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে পারলে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও এ খাতের বিকাশ সঠিকভাবে হচ্ছে না। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো এবার কোরবানির ঈদে চামড়ার দাম একদম কমে যাওয়া।
উল্লেখ্য যে, আমরা একটা বেল্ট, কিংবা চামড়ার জুতা কিনতে গেলে হাজার টাকা লাগে। অথচ সেই চামড়াই এখন ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার ভেতর বিক্রি করতে পারছে না মানুষ। আবার এসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ট্যানারি মালিকরাও চামড়া কিনছে না সঠিক মূল্য দিয়ে। যারা চামড়া সংরক্ষণ করে তাদের ভাষ্য হলো, গতবছর যে চামড়া সংরক্ষণ করা আছে সেগুলো এখনো বিক্রি করতে পারেনি। নতুন করে তাই বেশি চামড়া সংগ্রহ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এবছর চট্টগ্রামে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেক ব্যবসায়ী রাস্তায় চামড়া ফেলে চোখের জল নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। প্রায় ৩০ শতাংশ চামড়া এবার চট্টগ্রামে নষ্ট হয়েছে। এভাবে সারা দেশে অনেক চামড়া পচে যাচ্ছে, নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যা শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতি নয়, পুরো দেশের অর্থনীতির জন্য হুমকি। সেই সঙ্গে দেশের চামড়া শিল্পের বিপর্যয়। এবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ক্ষুদ্র এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। শুধু তাই নয়, চট্টগ্রামের জামেয়া মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য দান করা এবং ক্রয় করা চামড়াগুলো এবার বিক্রি করতে পারেনি। যার কারণে এতিম শিক্ষার্থীরাও তাদের হক থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
একসময় গার্মেন্টস খাতের পর চামড়া রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্র অর্জন করতো বাংলাদেশ। কিন্তু বর্তমানে চামড়া শিল্প সেই অবস্থানে আর নেই। দিন দিন যেন এ শিল্পের ধস নামছে। কিন্তু এ সমস্যার সমাধান হওয়া জরুরি। সরকারের উচিত এ সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসা। এবং যে সকল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে ফেলছে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তবেই চামড়া শিল্পের সুদিন ফিরবে বলে আমি মনে করি।
চামড়া রফতানির জন্য বাইরের দেশগুলোর দিকে না তাকিয়ে দেশে কীভাবে প্রক্রিয়াজাত করা যায় এবং চামড়াজাত পণ্যেও উত্পাদন করা যায় সেটা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে। প্রয়োজনে পৃথিবীর যে দেশসমূহ চামড়াজাত পণ্য উত্পাদন করে তাদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আমাদের দেশে শিল্প-কারখানা স্থাপন করা যেতে পারে। এতে করে দেশের মানুষের চাহিদাও মিটবে এবং চামড়াজাত দ্রব্য বাইরের দেশে রফতানি করে আরো অধিক মুনাফা অর্জন করা যাবে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, বিবিএ, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ,
ওমরগনি এমইস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, চট্টগ্রাম
