শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২১:১০

বাসভাড়া কয়েক গুণ বৃদ্ধি

 মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

ঈদ শেষে টানা আট দিন ছুটির পর শনিবার বহু মানুষ কর্মস্থল ঢাকায় ফিরেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ঈদের ছুটি শেষ হলেও বৃহস্পতিবার শোক দিবসের ছুটি থাকায় অধিকাংশ ঈদে ঘরমুখো মানুষ শুক্রবার পর্যন্ত ছুটি কাটিয়ে শনিবার কর্মস্থলে ফেরেন। তাই দীর্ঘ ছুটির পর শনিবার শিমুলিয়া ঘাটে ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রীদের ঢল নামে। উপচেপড়া ভিড়ে বাস স্ট্যান্ডে বাসের জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ সময় দীর্ঘক্ষণ লাইনে থেকে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। আর এ সুযোগে বাসমালিকরা বাসের ভাড়া দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত আদায় করেছেন।

শনিবার বিকালে শিমুলিয়া ঘাটে দেখা যায়, দক্ষিণ বঙ্গের যাত্রীরা লঞ্চ, সিবোট ও ফেরিতে করে পদ্মা পাড়ি দিয়ে বাসের জন্য ছুটছে শিমুলিয়া ঘাটের বাস স্ট্যান্ডে। ঢাকা থেকে যখনই কোনো বাস আসছে, অমনি হুমড়ি খেয়ে পড়ছে যাত্রীরা। কার আগে কে বাসে উঠবে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। বিশেষ করে মহিলা, বৃদ্ধ ও শিশু যাত্রীরে ভোগান্তির যেন শেষ ছিল না। এ সময় এক শ্রেণির বাসমালিক তাদের বাসের ভাড়া কয়েক গুণ বৃদ্ধি করে। শিমুলিয়া-ঢাকার ৭০ টাকার ভাড়া ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে যাত্রীদের কাছে থেকে।

সাতক্ষীরার সোলায়মান হোসেন শনিবার বিকালে শিমুলিয়া হয়ে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন। তিনি বলেন, বাসে ভাড়া অতিরিক্ত দিচ্ছি, তাতে যতটা না কষ্ট পেয়েছি, তার চেয়ে বড় কষ্ট হচ্ছে দাঁড়িয়ে গিয়েও একই ভাড়া দিতে হচ্ছে। এদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে গেল কয়েক দিন ধরে লৌহজং উপজেলা প্রশাসন বেশ কটি পরিবহনকে জরিমানা করে এবং যাত্রীদের থেকে নেওয়া অতিরিক্ত ভাড়া ফেরতও দেওয়া হয়। তার পরও কমছে না বাস টার্মিনালে পরিবহন নৌরাজ্য। শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ধারণ ক্ষমতার চেয়ে চার-পাঁচ গুণ বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো ঘাটে ভিড়ছে। এসব যাত্রীর কাছ থেকে নির্ধারিত ৩৩ টাকা লঞ্চ ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা আদায় করছে।

মাওয়া ট্রাফিক জোনের টিআই মো. হিলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, শিমুলিয়ায় অতিরিক্ত বাসভাড়ার বিষয়ে আমরা যতবার অভিযোগ পেয়েছি, ততবার আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা করেছি। আমরা খেয়াল রাখার চেষ্টা করছি। বৃহস্পতিবারও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে ডি এম পরিবহনের দুটি বাসকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং আদায় করা অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেওয়া হয়।