নোয়াখালী প্রতিনিধি
ঈদের এক সপ্তাহ পরেও নোয়াখালী-ঢাকা রুটে বাস যাত্রীদের কাছ থেকে অভিনব পন্থায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে কয়েকটি পরিবহন। ঈদের আগে নন-এসি বাস ৩৮০ এবং এসি বাসগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ভাড়া নিতো। সেখানে সরকারিভাবে নির্ধারিত ৩০৩ টাকা ভাড়া উপেক্ষা করে গত এক সপ্তাহ ধরে নন-এসি বাস ৫০০ টাকা ও এসি বাস থেকে ৬০০-৭০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে করে পরিবহনের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ঢাকাগামী কর্মমুখী ও সাধারণ মানুষ। জেলার বিভিন্ন স্থানে যেসব পরিবহনের বাস অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে সেগুলো হচ্ছে হিমাচল পরিবহন, একুশে এক্সপ্রেস ও লাল সবুজ।
এদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জন্য পরিবহনগুলোর কাউন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে কয়েক লাখ টাকা জরিমানা করলেও কোনো লাভ হয়নি। এ অভিযানের পর শুক্রবার সকালে হিমাচল পরিবহন বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দুই ঘণ্টা পর পুনরায় বাস চলাচল শুরু হয়। এ পরিস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানার পাশাপাশি যদি কারাদণ্ড দেয়, তা হলে বাস চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে এমন আশঙ্কা ও হতাশার কথা জনালেন জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রোকনু্জ্জামান খান। যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয় ভেবে প্রশসানও বিপাকে রয়েছে।
গতকাল শনিবার জেলা শহর মাইজদীতে এসব পরিবহনের কয়েকটি কাউন্টার ঘুরে দেখা যায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। এসময় যাত্রীরা টিকিট চাইলে না দিয়ে কাউন্টারের লোকজন তাদের সময়সূচি অনুযায়ী খাতায় মোবাইল নান্বার লিখে রেখে সিট নিশ্চিত করে এবং বাস ছাড়লে টাকা নেওয়া হবে জানায়। যাত্রীরা জনতে চান ভাড়া কত টাকা। কাউন্টারের লোকজন বলছেন নন-এসি ৫০০ ও এসি ৬০০ টাকা। এত টাকা কেন জানতে চাইলে? সাফ জবাব— এটি বাস মালিকদের সিদ্ধান্ত। নিরূপায় যাত্রীদের বাধ্য হয়ে মেনে নিতে হচ্ছে।
