মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানায় পুলিশি হেফাজতে রাখা একটি মোটরসাইকেল থানা প্রাঙ্গণ থেকেই চুরির অভিযোগ উঠেছে। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই উপজেলার চালা ইউনিয়নের সট্টি গ্রামের শাহিন শেখের ছেলে সিয়াম শেখ একটি মামলার কপি তুলতে মানিকগঞ্জ-ল-১১-৩৬৩৭ নম্বরের এই মোটরসাইকেল চালিয়ে হরিরামপুর থানায় যান। সেখানে অবস্থানকালে থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. এমদাদুল হক তার বাইকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চান। তাৎক্ষণিকভাবে সিয়াম শেখ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে বাইকটির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন (মামলা) দেওয়া হয়। এরপর বাইকের চাবি ও যানটি থানার হেফাজতে রেখে পরবর্তীতে কাগজপত্র নিয়ে এসে ছাড়িয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
পরবর্তী সময়ে সিয়াম শেখ তার ভাইকে সঙ্গে নিয়ে বাইকের যাবতীয় বৈধ কাগজপত্র নিয়ে থানায় হাজির হলে পুলিশ জানায়, আদালতের মাধ্যমে মামলার আইনি নিষ্পত্তি করেই মোটরসাইকেলটি নিতে হবে। তবে এর দুই দিন পরেই ঘটনার গতিপথ ভিন্ন রূপ নেয়। থানা থেকে ফোন করে সিয়ামকে জানানো হয়, আইনি নিষ্পত্তির আর প্রয়োজন নেই। তিনি যেন সরাসরি থানায় এসে তার গাড়িটি নিয়ে যান।
ফোন পেয়ে গত ৪ আগস্ট সিয়াম শেখের মামাতো ভাই রাজিব হোসেনকে নিয়ে বাইকটি আনতে হরিরামপুর থানায় যান। কিন্তু থানায় পৌঁছালে এসআই এমদাদুল হক তাকে জানান যে, মোটরসাইকেলটি থানা প্রাঙ্গণ থেকে হারিয়েছে গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাইক হারিয়েছে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা বাইকের বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের টাকা বাবদ অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং বিষয়টি সুরাহার জন্য ১৫ দিনের সময় চান।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায় গত ১ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টা ১৯ মিনিটের দিকে এক বা একাধিক ব্যক্তি মোটরসাইকেলটি থানা প্রাঙ্গণ থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছে। তবে রাতের আঁধারে ফুটেজে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা বাইকটি কীভাবে বাইরে নেওয়া হলো,তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, এসআই মো. এমদাদুল হক ছাড়াও আরও দুজন কনস্টেবল এই ঘটনায় জড়িত। তাদের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী পুলিশ হেফাজতের গাড়িটি বাইরে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল মালিক সিয়াম শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
একটি মামলার তথ্য নিতে গিয়ে শুধু কাগজপত্র সঙ্গে না থাকায় পুলিশ আমার গাড়িটি জব্দ করেন। পরে গাড়ি আনতে গেলে প্রথমে বলে চাবি পাওয়া যাচ্ছে না, আর এখন বলছে গাড়িই নাকি চুরি হয়ে গেছে। পুলিশ হেফাজত থেকে কিভাবে একটি গাড়ি উধাও হয়। আমি এর পেছনে জড়িতদের শাস্তি ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।
সিয়ামের ভাই রাজিব বলেন, পুলিশ আমাদের টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চাচ্ছে। কিন্তু আমরা গাড়ি বিক্রি করতে আসি নাই। আমরা আমাদের নিজস্ব গাড়ি অক্ষত অবস্থায় ফেরত চাই।
অভিযুক্ত এসআই মো. এমদাদুল হক বলেন, কাগজপত্র না থাকায় বাইকটি আটক করে মামলা দেওয়া হয়েছিল। আমার হেফাজত থেকেই মূলত বাইকটি মিসিং হয়েছে। গাড়িটি উদ্ধারের জন্য আমরা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
হরিরামপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, নম্বর প্লেটবিহীন মোটরসাইকেলটি জব্দ করে রাখা হয়েছিল। পরে মালিকের হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার সময় দেখা যায় গাড়িটি পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি। ঘটনার রহস্য খুলতে বাইকের মালিকসহ অন্যান্য যাদের ভূমিকা সন্দেহজনক, তাদের সবাইকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনছি।

