জাজিরায় বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে হামলা, নারীসহ আহত ৩

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২১:৪৭

শরীয়তপুরের জাজিরায় জমির বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে ঢুকে একই পরিবারের তিন সদস্যকে মারধর ও এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ ডুবলদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত আলী হোসেন মাদবর (৬১) বাদী হয়ে জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, জমি নিয়ে আলী হোসেন মাদবরের সঙ্গে তার ভাই আমির হোসেন মাদবরের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। শনিবার ওই জমির বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমির হোসেন মাদবর ও তার ছেলেরা আলী হোসেনের বসতবাড়িতে ঢুকে তাকে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আলী হোসেনের অভিযোগ, গালিগালাজে বাধা দিলে আমির হোসেনের নির্দেশে তার ছেলে সাগর মাদবর ও ফাহিম বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান তিনি।

বাবাকে মারধরের সময় মেয়ে সিখা আক্তার (২৫) এগিয়ে এলে তাকেও টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি এবং কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আলী হোসেনের স্ত্রী লেবু বেগম (৫০)-এর মাথায় কাঠের বাটাম দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এতে তার মাথায় ফুলে যাওয়ার মতো জখম হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার পর অভিযুক্তরা ওই জমি থেকে প্রায় ৩০টি বাঁশ কেটে নিয়ে যান। এতে আনুমানিক ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আলী হোসেন বলেন, মারধরের সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাদের প্রকাশ্যে জীবননাশের হুমকি দেন। পরে স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলী হোসেন ও তার মেয়ে সিখা আক্তার চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়েছেন। তবে লেবু বেগম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আলী হোসেন বলেন, ‘জমির বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত। পরে আমার বসতবাড়িতে ঢুকে আমাকে, আমার স্ত্রী ও মেয়েকে মারধর করা হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম