লোকসান গুনছে মৌসুুমি ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৬

নাটোরে চামড়া বিক্রয়ে ক্ষোভ

নাটোর প্রতিনিধি

উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম চামড়ার আড়ত নাটোরে অবস্থিত হলেও খোদ এখানেই ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে মৌসুমী ও সাধারণ চামড়া ব্যবসায়ীদের মনে। লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। কারণ নাটোরের চামড়ার আড়তগুলোতে মালিকরা চামড়া কিনছে না। মৌসুমী ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা গ্রাম ও শহর থেকে চামড়া কিনে এনে আড়তগুলোতে বিক্রি করতে না পারায় অনেক ব্যবসায়ী আড়তের সামনে চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন। আবার শ্রমিক সংকটের কারণে এসব চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, নাটোরের চকবৈদ্যনাথ এলাকায় বাংলাদেশের বৃহত্তম কাঁচা চামড়ার আড়ত। ছোটো-বড়ো মিলিয়ে এখানে ২০০ এর অধিক আড়ত আছে। কোরবানির ঈদ মৌসুমে এখানে ৮০০ থেকে হাজার কোটি টাকার চামড়া কেনাবেচা হয়। উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চল মিলে ৩০টি জেলার চামড়া এখানে আসে। ছোটো-বড়ো ব্যবসায়ী ছাড়াও বিভিন্ন মাদ্রাসা, লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের ইমামরাও চামড়া নিয়ে আসে এখানে বিক্রি করতে। সরকার চামড়ার দর বেঁধে দিলেও তা মানছে না কেউই।

মাদ্রাসা, লিল্লাহ বোর্ডিং, সাধারণ বিক্রেতা ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বলেন, কোরবানির পশুর বিক্রিত অর্থ শুধুমাত্র এতিম ও গরীবদের হক। চামড়া বিক্রিত অর্থ থেকেই মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের অসহায় ও এতিম বাচ্চারা তাদের খোরপোশের অর্থ পেয়ে থাকে। কিন্তু সরকারের বেঁধে দেওয়া দর অনুযায়ী প্রতিটি গরুর চামড়া ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও এখানে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত। চামড়া পচনশীল বলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লবণ না মাখালে চামড়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই আতঙ্কিত হয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা লোকসান দিয়েও চামড়া বিক্রি করছে।

নাটোরের চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি লুত্ফর রহমান জানান, ‘ঢাকা হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের কারণে ট্যানারি ব্যবসায়ীদের অনেক টাকা বিনিয়োগ করতে হয়েছে। তাই তারা আমাদের গত বছরের পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি। এই টাকা না পাওয়ার কারণে আমরা এ বছরে চামড়া কিনতে পারছি না।’