নেত্রকোনায় শ্রেণিকক্ষের জানালা ঘেঁষে নদীর স্রোত, যেকোনো সময় বিলীন হতে পারে স্কুল

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৮:০৯

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় মগড়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নদীর স্রোত এখন বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের জানালা ঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙনের শব্দে কেঁপে উঠছে পুরো ভবন। এরই মধ্যে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ ও ওয়াশরুম নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। যেকোনো সময় পুরো বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন ১৭৭ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষায় উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিতে মগড়া নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও তীব্র হয়েছে। গত কয়েক দিনের ভাঙনে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর আগেই বিদ্যালয়ের একটি ওয়াশরুম নদীতে চলে যায়। ভাঙনের আতঙ্কে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে।

অভিভাবকেরা বলেন, বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে তাদের সন্তানদের ৩-৪ কিলোমিটার দূরের অন্য বিদ্যালয়ে যেতে হবে। পথে হাওরের কাঁদা-পানি পাড়ি দিতে হবে, যা ছোট শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টকর। এ অবস্থায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদেকুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো সাড়া নেই। যেকোনো সময় পুরো ভবন নদীতে চলে যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’

মদন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা বলেন, ‘এটিইও সাহেব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইউএনও ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।’

এ ব্যাপারে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ডিসি স্যারকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডের টিম নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষায় দ্রুত মগড়া নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বাগজান, কুঠুরীকোনা, পাহাড়পুর ও পরশখিলা গ্রামের শিশুরা পড়াশোনা করে। দীর্ঘদিনের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেকে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

ইত্তেফাক/আরএইচ