ফরিদপুরের নগরকান্দায় সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের গণনাকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নগরকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন।
সোমবার (১০ আগস্ট) নগরকান্দা থানার ওসি রাসুল সামদানী আজাদ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রোববার নগরকান্দা থানার ওসি বরাবর দেওয়া অভিযোগে ইউএনও উল্লেখ করেন, কয়েকজন আবেদনকারী পরস্পর যোগসাজশে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন উস্কানিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এমনকি ফলাফল প্রকাশের আগেই ফলাফলের ‘নমুনা’ প্রকাশ করে জনসাধারণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গ্রুপটির মাধ্যমে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এসব প্রচারণার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
অভিযোগে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে মো. কবিরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নগরকান্দার ডাঙ্গী ইউনিয়নের বাঁশাগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মোহাম্মাদ শাহাবুদ্দিনসহ আরও অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযোগে জড়িত থাকার কথা বলা হয়েছে।
ইউএনওর অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব বক্তব্য ও প্রচারণার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ না থাকলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি নিয়োগে অংশ নেওয়া প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে এর পরিধি বাড়লে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট ও কমেন্টের স্ক্রিনশট, পোস্ট/ভিডিও/অডিওর লিংক বা কপি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্য থাকার কথা জানানো হয়েছে।
ওসি রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, অভিযোগটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া হবে।

