স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে আগেই ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে, জাতীয় দলের নতুন কোচকে উঠতি ক্রিকেটারদের নিয়ে ও পাইপলাইন নিয়েও কাজ করতে হবে। মূলত এ শর্তটা পূরণ করাতেই বিসিবি নতুন কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে রাসেল ডমিঙ্গোকে। গতকাল নতুন কোচের নাম ঘোষণা করতে গিয়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বললেন, দক্ষিণ আফ্রিকান এ কোচ শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটের সমন্বিত একটা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
খেলোয়াড় হিসেবে শীর্ষ পর্যায়ে খেলার কোনো অভিজ্ঞতা নেই ডমিঙ্গোর। ২০০৪ সালে তরুণ বয়সেই খেলা ছেড়ে দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হয়ে যান। এ সময় বাংলাদেশেও এসেছিলেন তিনি। এরপর ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা-এ দলের কোচিং করান। ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সহকারী কোচ হন। ২০১২ সালে দলটির টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডের প্রধান কোচ হন। এরপর ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সব ফরম্যাটের প্রধান কোচ।
কোচ হিসেবে ডমিঙ্গোকে কেন বেছে নেওয়া হলো, সেটা বলতে গিয়ে পাপন বলেছেন, ‘শেষ পর্যন্ত তিনজন ছিল টপ লিস্টে। এরমধ্যে ক্রাইটেরিয়া দেখতে হয়েছে। প্রথম যেটা সেটা হচ্ছে এভেইলেবেলিটি। অনেকেই আমাদের হেড কোচ হতে চাচ্ছেন, কিন্তু এ মুহূর্তে আসতে চাচ্ছেন না। আরেকটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো ফুলটাইম কাকে পাব। কেউ সিরিজের আগে আসবে এমন।’
শেষ পর্যন্ত বেছে নেওয়া হয়েছে এর ভেতর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের সাবেক কোচ ডমিঙ্গোকে। তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে পাপন জানালেন, ‘রাসেল ডমিঙ্গোর সমৃদ্ধ কোচিং অভিজ্ঞতা আছে। সে অল্প বয়সেই কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করে। ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হয়। ২০১৫ তে ওডিআই বিশ্বকাপে কোচ ছিল। ২০১৭ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ ছিল। এখনো সে সেখানকার এইচপির কোচ রয়ে গেছে। সে ২১ তারিখে এসে যোগ দেবে।’
রাসেল ডমিঙ্গোকে বেছে নেওয়ার বড়ো একটা কারণ, তাকে বেশি সময় ধরে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বোর্ড সভাপতি বলছিলেন, তিনি জাতীয় দলের পাইপলাইন নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। এটা তাকে বাকিদের চেয়ে এগিয়ে দিয়েছে বলেই বলছিলেন তিনি, ‘সবচেয়ে বেশি এভেইলেবেলিটি। সামনে যে আমাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে সেখানে কিছু নতুন ছেলেপেলে ঢুকতে পারে। সম্ভাবনা আছে। কারণ আমাদের কিছু বিকল্প লাগতে পারে। সেদিক দিয়ে যদি চিন্তা করেন। এখন থেকেই নিচে থেকে ছেলেদের নিয়ে আসতে হবে। রাসেল কিন্তু এটাই করতে চাচ্ছে। সে আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দল, এইচপি এসব কিছু ইন্টিগ্রেট করে কাজ করতে চাচ্ছে। এ রকমই কাজ করে আসছে সে দক্ষিণ আফ্রিকায়। এটা একটা প্লাস পয়েন্ট তার জন্য। সে আমাদের চার বছরের একটা পরিকল্পনা দিয়েছিল। অন্যরাও দিয়েছে, বাট ও সামনাসামনি দিয়েছে। কেউ স্কাইপেতে দিয়েছে, কেউ লিখিত দিয়েছে। কাজেই এদিক দিয়ে চিন্তা করলে সে এগিয়ে ছিল।’
আপাতত ডমিঙ্গোর সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি হচ্ছে বোর্ডের। তবে কাজে সন্তুষ্ট হলে চুক্তির মেয়াদ আরো বাড়ানো হবে বলেই জানালেন বিসিবি সভাপতি, ‘আমরা বলেছি দুই বছর। সে বলেছে আমার কোনো ছুটি-টুটির দরকার নেই। আমার কোনো পিছুটান নেই। আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় দিতে চাই।’
