স্পোর্টস ডেস্ক
ভারতের কোচ হিসেবে সাফল্যের খাতাটা রবি শাস্ত্রীর বেশ পরিপূর্ণই বলা যায়। আর নতুন ভাবে আবারও দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জানালেন, আগের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেই তিনি মনোযোগ দিচ্ছেন।
শাস্ত্রীর অধীনে ভারত ২১টি টেস্টের মধ্যে জিতেছে ১৩টিতে। ৬০টি ওয়ানডে খেলে জিতেছে ৪৩টিতে। আর ৩৬টি টি-টোয়েন্টিতে জয়ের সংখ্যা ২৫টি। গেল শুক্রবার দিনভর মুম্বাইয়ে বেশ কয়েকজন কোচের সাক্ষাত্কার নেওয়ার পর বোর্ডের ক্রিকেট অ্যাজভাইজরি কমিটি শাস্ত্রীকেই কোচ হিসেবে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
শাস্ত্রী আবারও দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত। দুই বছরের মেয়াদ নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি বলেন, ‘ভারতীয় দলের অংশ হতে পারাটা আমার জন্য বিরাট সম্মানের ব্যাপার। আমি এখানে আঠি, কারণ এই দলটার ওপর আমি বিশ্বাস রাখি। আমি মনে করি, এই দলটার পক্ষে একটা ঐতিহ্য সৃষ্টি করা সম্ভব।’
ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সঠিক পথেই আছি। খেলাটাই এমন যে এখানে সব সময় উন্নতির সুযোগ থাকে। আমরা সেই উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সংগ্রাম করবো। আশা করি, ভবিষ্যত্টা আরো বেশি সুন্দর।’
বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়ার পর শাস্ত্রীর চাকরি হারানোর শঙ্কা ছিল। তবে, সেই শঙ্কা সত্যি হয়নি। শাস্ত্রীও নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে সব সময়ই নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। এখানে কেউই পরিপূর্ণ নন। খুটিনাটি সব ব্যাপারেই আমাদের মনোযোগী হতে হবে। মন্দ একটা দিন আসতেই পারে। তবে, সেই সময়টা কাটিয়ে সামনে এগোনোর মানসিকতা থাকতে হবে।’
নতুন ভাবে দায়িত্ব বুঝে পেয়ে ক্রিকেট অ্যাডভাইজরি কমিটির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শাস্ত্রী। তিন সদস্যের কমিটিতে আছেন বিশ্বকাপজয়ী প্রথম ভারতীয় অধিনায়ক কপিল দেব, সাবেক ওপেনার ও কোচ অংশুমান গায়কোড় ও ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক শান্তা রঙ্গস্বামী।
এর আগে এই কমিটির দায়িত্বে ছিলেন শচিন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি ও ভিভিএস লক্ষ্মণ। তারাই ২০১৬ সালে অনিল কুম্বলে ও এক বছর বাদে শাস্ত্রীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে সাবেক কোচ অনিল কুম্বলের বিদায়ের পর জুলাইয়ে কোহলিদের পছন্দের ভিত্তিতেই প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন শাস্ত্রী।
৫৭ বছর বয়সি শাস্ত্রী এর আগেও ২০১৪-এর আগস্ট থেকে ২০১৬-এর জুন পর্যন্ত দলের ক্রিকেট পরিচালক ছিলেন। তার অধীনে ভারত ওয়ানডেতে অনেক বড়ো কোনো সাফল্য না পেলেও ধারাবাহিক ভাবে পারফরম করে গেছে। তবে, শাস্ত্রীর সবচেয়ে বড়ো অর্জন হলো প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতকে টেস্ট সিরিজ জেতানো।
শেষ দুই বছর ভারত যেমন ভাবে খেলছে, তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শাস্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা খুব দারুণ ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলেছি। আপনি যদি শেষ দুই বছরে আমাদের পারফরম্যান্স দেখলেই সেটা বোঝা যাবে। আমরা নিজেদের মানটাকে প্রতিনিয়তই বাড়িয়ে চলেছি।’
