সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বসতবাড়ি লিখে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পারিবারিক বিরোধ নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ শিশির মনির।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘শিশির মনির মিডিয়া সেল’ থেকে সংসদ সদস্যের প্রতি লেখা এক খোলা চিঠির মাধ্যমে তিনি এ আহ্বান জানান।
চিঠিতে আইনজীবী শিশির মনির বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্যের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি জানি এই চিঠি পড়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো শারীরিক বা মানসিক অবস্থা আপনার নেই। তথাপি আপনার প্রিয়জনরা হয়তো আপনাকে অবগত করবেন।’
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, ঘটনাটি একসময় একান্তই পারিবারিক থাকলেও এখন আর তা নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি এখন দেশজুড়ে আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
দিরাই-শাল্লার বাসিন্দা হিসেবে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে শিশির মনির চিঠিতে উল্লেখ করেন, ‘যেখানেই যাই মানুষ আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করে জানতে চায়। এটি আমাদের সম্মিলিত লজ্জা। এই বয়সে আপনাকে নিয়ে এগুলো হওয়ার কথা নয়। আপনার লজ্জা আর আমাদের লজ্জা মিলেমিশে একাকার। আপনি আমাদের নির্বাচিত নেতা। তাই আমরা যারপরনাই উদ্বিগ্ন।’
অতীতে যিনি অসংখ্য মানুষের সমস্যার সমাধান করেছেন, আজ তিনিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ায় বিষয়টি আর না বাড়িয়ে নিজেদের মধ্যেই সমাধানের অনুরোধ জানান এই আইনজীবী। চিঠির শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘এখানেই ইতি টানুন। নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করে নেন—এই প্রত্যাশায়।’
অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর গলায় রামদা ঠেকিয়ে বসতবাড়ির দলিল রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগে সোমবার (১০ আগস্ট) দিরাই আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়। এমপির স্ত্রী পারভীন আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর তিন সৎ ভাইসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগ গণমাধ্যমে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সংসদ সদস্যের প্রতি এই খোলা চিঠি দিলেন শিশির মনির।

এমপির গলায় রামদা ধরে বাড়িসহ সব সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ