কারও নাম উল্লেখ না করে তার চিকিত্সায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। তিনি বললেন, ‘আমার বয়স হয়েছে, চিকিত্সা করতে দেবে না, বাইরে যেতে দেবে না। ভয় দেখিয়ে আমাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। আমি মৃত্যুকে ভয় করি না।’ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে অনেকটা আকষ্মিকভাবে রাজধানীর বনানীতে নিজের কার্যালয়ের সামনে এসে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি একথা বলেন। গাড়িতে বসেই নেতা-কর্মীদের সামনে কয়েক মিনিট কথা বলেন এরশাদ। রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ায় রবিবার গভীর রাতে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন এরশাদ। বুধবার পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন। এর আগেও চারদিন তিনি সিএমএইচে ভর্তি ছিলেন। নির্বাচন সামনে রেখে পার্টির মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়ার পর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যায়নি এরশাদকে। তার অসুস্থতার বিষয়ে জাপার পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দেওয়া হচ্ছিল সাংবাদিকদের।
গতকাল ৬ ডিসেম্বর ছিল ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’। যদিও জাপা দিনটিকে পালন করে ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ হিসেবে। গতকালও জাপা দিনটি সেই হিসেবে পালন করেছে। এর মধ্যেই গতকাল হঠাত্ বনানী কার্যালয়ে এসে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, ‘আজ বলতে এসেছি, আমাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না, এগিয়ে যাব। তোমাদের কোনো ভয় নেই। জাপা তোমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবে। জাপা চিরদিন নির্বাচন করেছে, এবারও করবে।
দলের নতুন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাকে নিয়ে এরশাদ বলেন, ‘পুরোনো মহাসচিবকে (এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার) ভালোবাসতাম। নতুন মহাসচিবকে তোমরা ভালোবাস। সে নতুন, তাকে সাহায্য করো। আমি বেঁচে আছি, বেঁচে থাকব। ২৭ বছর ধরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি, পার্টি ছাড়িনি। সব নির্ভর করে তোমাদের ওপর। কেউ পার্টি ছেড়ে যেয়ো না, আমাকে প্রতিশ্রুতি দাও।’ কার্যালয় ত্যাগের আগে এরশাদ তার কর্মীদের বলেন, ‘আমার ব্লাড শর্টেজ আছে, একটু বাসায় যাচ্ছি খেতে।’ একথা বলে তিনি বাসায় চলে যান।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে এরশাদ নাটকীয় অসুস্থতা নিয়ে সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানে ভর্তি থাকা অবস্থাতেই তিনি এমপি নির্বাচিত হন এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্ব পান।
জিএম কাদের ও রাঙ্গা ভিন্ন কথা
এরশাদ তার চিকিত্সায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ করলেও তার সহোদর ও জাপার কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের এবং মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন ভিন্ন কথা। জি এম কাদের বলেছেন, ৮৮ বছর বয়সে যতটা সুস্থ থাকার কথা, ততটা সুস্থ এরশাদ আছেন। তার চিকিত্সা নিয়ে ধূম্রজালের কোনো সুযোগ নেই। আর মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, এরশাদ বড় রকমের অসুস্থ-এটা মনে করার মত কিছু ঘটেনি। তার বিদেশে যাওয়ার বিষয়েও কোনো বাধা নেই। ‘সংবিধান সংক্ষণ দিবস’ উপলক্ষে গতকাল জাপার বনানী কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা এ কথা বলেন।
পার্টি অফিসের সামনে গাড়িতে বসে দুপুরে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পর এরশাদ বাসায় ফিরে যান। পরে আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি টেলিফোনের মাধ্যমে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে কথা বলেন। এসময় এরশাদ বলেন, ‘জাপা কঠিন সময় পার করছে। সামনে আরও কঠিন সময় আসবে। তবে পার্টির জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। জাপা থাকবে, জাপা আছে। আমাদের সুদিন আসবে।’ আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে এরশাদ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এবার ৩০০ আসন না পেলেও নিরুত্সাহিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
