ঘুষের অভিযোগের এক মাস পরও বহাল জাজিরার তহসিলদার

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১৮:২৮

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার লিটন দেওয়ানের বিরুদ্ধে ১০ টাকার ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ দিতে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের এক মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত শেষ হয়নি। অভিযোগের পর এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অভিযুক্ত তহসিলদার এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন। গণমাধ্যমে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি সংবাদ প্রকাশের পর শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তুষার সাহাকে এ অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

তিনি তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তুষার সাহা জানান, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযোগকারী আজিজুল হককে বক্তব্য দেওয়ার জন্য একাধিকবার ডাকা হলেও অসুস্থতার কারণে তিনি তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হতে পারেননি।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ভুক্তভোগীর বক্তব্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।

গত ১৪ জুলাই জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জমির ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ নিতে গিয়ে তহসিলদার লিটন দেওয়ানের বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হক। তার দাবি, তহসিলদারের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার টাকা পাঠানোর পর তাকে সরকারি রশিদ দেওয়া হয়। তবে ওই রশিদে ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ সরকারি ফি উল্লেখ ছিল মাত্র ১০ টাকা।

আজিজুলের অভিযোগ, অতিরিক্ত টাকা ফেরত চাইলে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে ‘কোনো টাকা নেওয়া হয়নি’—এমন বক্তব্য জোরপূর্বক আদায় করে ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনাটি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘেরাও করেন। তহসিলদারকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে অভিযোগের ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।

আগের অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকার মধ্যেই তহসিলদার লিটন দেওয়ানের বিরুদ্ধে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের কয়েকজন দাবি করেন, ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সরকারি ফির বাইরে তাঁদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ভূমি অফিসে সেবা নিতে গেলে নানা প্রক্রিয়াগত জটিলতার কথা বলে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হয়। দ্রুত সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ তাদের।তবে নতুন এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা এখনো যাচাই করা হয়নি।

স্থানীয় কয়েকজনের প্রশ্ন, একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে একই কর্মস্থলে বহাল রাখার কারণ কী। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত যেন শুধু একজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগও তদন্তের আওতায় এনে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে তহসিলদার লিটন দেওয়ান তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। আমি কোনো ধরনের ঘুষ বা অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করিনি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোও সঠিক নয়। কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে থাকে, তাহলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণসহ অভিযোগ করুক। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা আমি মেনে নেব।’

ইত্তেফাক/এমএএম