ইরানের প্রাণনাশের হুমকির মুখে গত ৮ জুলাই তুরস্ক ছাড়ার সময় নাটকীয়ভাবে উড়োজাহাজ বদল করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন শেষে বিশ্বস্ত ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানটিকে ফাঁকা রেখে, গণমাধ্যম ও নিজ কর্মীদের অজান্তেই ছদ্মবেশে ভিন্ন একটি সামরিক বিমানে চড়ে তিনি গোপনে আঙ্কারা ত্যাগ করেন।
এই হুমকির বিষয়ে অবগত দুজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা সংস্থা একাধিক সূত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য পেয়েছিল। তারা জানতে পেরেছিল, এয়ার ফোর্স ওয়ানে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য (সারফেস-টু-এয়ার) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দিষ্ট হুমকি আছে। অর্থাৎ, প্রেসিডেন্ট যে উড়োজাহাজেই থাকুন না কেন, সেটিই লক্ষ্য হতে পারত। এছাড়া, ন্যাটো সম্মেলনের আশপাশে একজনকে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহও দেখা গিয়েছিল।
ওই কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্প আঙ্কারায় ঠিক কোথায় এবং ভবনের কত তলায় অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়েও ইরানিদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল। এসব তথ্য গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট হওয়ায় ওই কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি।
হামলার হুমকির তথ্যটি এতটাই বিশ্বাসযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছিল যে, ট্রাম্পকে তুরস্ক থেকে বের করে আনতে ছদ্মবেশী কৌশল অবলম্বন করা হয়। ট্রাম্প ক্যামেরার সামনে প্রথমে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠলেও পরে একটি ক্যাটারিং কনটেইনারের মাধ্যমে সামরিক বিমানে চেপে তুরস্ক ছাড়েন।
ট্রাম্প এর আগেও ইরানের নানা ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। ২০২৪ সালে পেনসিলভেনিয়ার বাটলার-এ নির্বাচনী প্রচারের সময় এক বন্দুকধারীর গুলি তাঁর কান ছুঁয়ে যায়। একই বছরের শেষ দিকে ফ্লোরিডায় নিজস্ব গলফ কোর্সে আরেকজন সশস্ত্র ব্যক্তির হামলার লক্ষ্য হন। এ দুটি হত্যাচেষ্টার ঘটনার সঙ্গে ইরানি হুমকির সম্পর্ক ছিল না।
তবে জো বাইডেন প্রশাসন ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার একটি ষড়যন্ত্র উদঘাটন করেছিল। এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তখন বলা হয়েছিল, ষড়যন্ত্রটি পরিচালিত হয় ইরানিদের নেতৃত্বে। তারা একটি প্রক্সি বাহিনী ব্যবহার করেছিল।

