প্রবল বৃষ্টির মধ্যে রাতে কলকাতার রাস্তায় খাবারের খোঁজে বের হয়েছিলেন ফারহানা ইসলাম তানিয়া (৩০) এবং কাজী মুহম্মদ মইনুল ইসলাম ( ৩৬)। বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় কলকাতার শেকসপিয়ার সরণির ফুটপাতে মৃত্যু হলো তাদের। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন তাদের সঙ্গে থাকা শফি রহমতুল্লাহ জিহাদ। এ ঘটনায় কলকাতার বিখ্যাত রেস্টুরেন্ট চেন আর্সেলানের মালিকের ছেলে আর্সেলান পারভেজকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাত পৌনে ২টায় শেকসপিয়ার সরণি ও লাউডন স্ট্রিটের সংযোগস্থলে একটি জাগুয়ার গাড়ি প্রচণ্ড গতিতে একটি মার্সিডিজকে ধাক্কা মারে। জোরালো ধাক্কায় দুমড়ে যায় মার্সিডিজের পেটের একাংশ। তারপর সেটি ধাক্কা মারে রাস্তার ধারের একটি পুলিশ বক্সকে। ঐ অস্থায়ী ঘরের পাশেই বৃষ্টি থেকে বাঁচতে দাঁড়িয়েছিলেন এই তিন জন। অস্থায়ী ঘরে ধাক্কা মারার পর জাগুয়ারটি তাদের ধাক্কা মারে। ঘটনায় তিন জনই গুরুতর জখম হন। এসএশকেএম হাসপাতালে তাদের নিয়ে যাওয়া হলে তানিয়া ও মইনুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিত্সকরা।
গত ১৪ আগস্ট কলকাতায় এসেছিলেন এ তিন জন। তানিয়া বাংলাদেশের সিটি ব্যাঙ্কের অ্যাসিস্টেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট। ঈদের ছুটিতে কলকাতায় এসেছিলেন। পাশাপাশি চিকিত্সাও করাচ্ছিলেন। রবিবার তাদের বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কুষ্টিয়ার বাসিন্দা তানিয়া থাকতেন লালমাটিয়ায়।
ঝিনাইদহে বাড়ি মইনুলের। তিনি গ্রামীণ ফোনে কর্মরত। চোখের চিকিত্সার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন মইনুল। চোখ দেখাচ্ছিলেন শঙ্কর নেত্রালয়ে। উঠেছিলেন মির্জা গালিব স্ট্রিটের ভিআইপি হোটেলে। তাদের সঙ্গে ছিলেন মইনুলের বন্ধু জিয়াদ। জিয়াদ জানিয়েছেন, প্রবল বৃষ্টির কারণে রাতে খাবার খেতে পারেননি। বৃষ্টি একটু কমায় তারা খেতে বের হয়েছিলেন। ফেরার পথে আবার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তারা পুলিশ বক্সের আড়ালে দাঁড়িয়েছিলেন। উবার কিংবা ট্যাক্সির খোঁজ করছিলেন। তখনই বেপরোয়া গাতিতে এসে জাগুয়ারটি মার্সিডিজে ধাক্কা মারে। সেটি এসে পড়ে তানিয়াদের ওপরে।
বাংলাদেশ উপদূতাবাসের কনস্যুলার বশির উদ্দিন জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই দুই জনের মৃতদেহ স্থানীয় সময় শনিবার রাত ২টায় কলকাতা থেকে পেট্রাপোলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা। রবিবার সকালে তাদের দেহ বাংলাদেশের বাড়িতে যাবে।
