অর্থ পাঁচার মামলায় হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চের রায়

জামিন দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৩:০১

অর্থ পাচারের মামলায় এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম. ওয়াহিদুল হক ও কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামালকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। তবে বিশেষ আইনের মামলায় জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে আদালত। এ সংক্রান্ত রায়ে বলা হয়েছে, বিশেষ আইনে দায়েরকৃত মামলার এজাহার, বাদী-বিবাদী পক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিসূমহ যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে জামিন আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে সঠিকভাবে বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। কারণ এ ধরনের মামলার সঙ্গে অর্থ পাচারের মতো গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ থাকে।

আদালত বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের এখতিয়ার রয়েছে জামিন দেওয়ার। তবে এক্ষেত্রে মামলার গুণাগুণ দেখে অত্যন্ত সতর্কভাবে জামিন দিতে হবে। ওই দুই কর্মকর্তার জামিন বাতিল প্রশ্নে জারিকৃত রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এ রায় দেন। এ রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেন বেঞ্চের দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম। তিনি দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, বিশেষ আইনের মামলায় বিচার পূর্ব এবং বিচার পরবর্তী অবস্থায় আসামিরা কোন আদালতে জামিন চাইবে সে বিষয়ে আইনে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা উচিত। এটা থাকলে আসামির জামিন চাওয়া ও মঞ্জুরের ক্ষেত্রে আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হবে না। এদিকে বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ব্যাংকের ওই দুই কর্মকর্তার জামিন বাতিল করে দেন। তিনি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি, মানি লন্ডারিং আইন ও ক্রিমিনাল অ্যামেন্ডমেন্ট ল’ অ্যাক্ট এক সঙ্গে পর্যালোচনা করলে এটা পরিষ্কার যে, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে ওই জামিন দিয়েছে। আশরাফুল কামাল বলেন, দুর্নীতি অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থাকে আজ কুরে কুরে খাচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশের মানুষ সোচ্চার। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সার্বভৌম সংসদও বেশকিছু আইন প্রণয়ন করেছে। তাই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরকারকে যেমন কঠোর হতে হবে, তেমনি আদালতকেও সতর্ক থাকতে হবে।

পরে ওয়াহিদুল হকের আইনজীবী মোহাম্মদ আরসাদুর রউফ সাংবাদিকদের বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ দুই বিচারপতি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জামিন বহাল রেখেছেন। অর্থাত্ তারা জামিনেই থাকবেন। দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি ও অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট বলেছে- অর্থ পাচার মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের এখতিয়ার রয়েছে জামিন দেওয়ার।