কোরবানির বাজারে গরুর দাম কমে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রাম জেলায় খামারি ও ব্যবসায়ীদের কাছে প্রায় ৫০ হাজার কোরবানির পশু অবিক্রিত অবস্থায় রয়ে গেছে। লোকসানের কারণে তারা এসব পশু বিক্রি করতে পারেননি। অবিক্রিত পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।
গরু ব্যবসায়ী ও খামারিরা জানান, আশপাশের জেলা থেকে প্রচুর গবাদি পশু আসে নগরীর কোরবানির পশুর বাজারগুলোতে। চাহিদার তুলনায় বেশি গরু আসায় কোরবানির আগের দিন দাম পড়ে যায়। এতে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা লোকসানে বিক্রি করলেও খামারিরা রেখে দিয়েছেন পশু।
নগরীর বৃহত্ সাগরিকা গরুর বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছে এখনো কোরবানির জন্য আনা শত শত গরু অবিক্রিত রয়েছে। গরুগুলো লালন পালনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, আশপাশের জেলা থেকে গরু এসে চট্টগ্রামের বাজার সয়লাব হয়ে যায়। কিন্তু এত গরু কেনার ক্রেতা ছিল না। সাগরিকা বাজারের গরু ব্যবসায়ী আবদুর রহিম বলেন, আমি ১০০টি গরু এনেছিলাম। এর মধ্যে ৩৫টি গরু লোকসানের কারণে বিক্রি করতে পারিনি। যেসব গরু বিক্রি করেছি তাও ক্রয়মূল্যের কাছাকাছি। মিয়ানমার থেকে প্রচুর গরু আসে এবার।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুণ চৌধুরী বলেন, আমরা ৬টি কোরবানির গরু মোটাতাজা করেছিলাম। একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১৫/২০ হাজার টাকা কমে ক্রেতারা চায়। এবার খামারিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অধিকাংশ খামারি ব্যাংক ঋণের সুবিধা পাচ্ছে না। নিজের নামে জমি না থাকলে ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে না।
সাতকানিয়ার খামারি ফজল করিম বলেন, আমি ৫৮টি গরু বিক্রির জন্য চট্টগ্রাম শহরে নিয়েছিলাম। এরমধ্যে লোকসানের কারণে ১৪টি বিক্রি করতে পারিনি। এসব গরুর দাম ২ লাখের উপরে ও নিচে।চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানায়, এবার জেলায় ৬ লাখ ১০ হাজার কোরবানির পশু মোটাতাজা করা হয়েছিল। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিয়াজুল হক বলেন, আমার জানা মতে খামারিদের কাছে প্রায় ৩৫ হাজার কোরবানির পশু অবিক্রিত রয়েছে। লোকসানের কারণে তারা বিক্রি করেনি। ক্রেতার চেয়ে বাজারে গরু বেশি ছিল। আশপাশের জেলা থেকে প্রচুর গরু চট্টগ্রামে ব্যাপারীরা নিয়ে এসেছিল। ফলে ব্যাপারীরা কম বিক্রি করতে পেরেছে।
