সাতক্ষীরার তালা উপজেলার চর কানাইদিয়া গ্রামে দরজা-জানালা বন্ধ অবস্থায় নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা যুবক মো. আল আমিন গাজীর (৩২) এসিডদগ্ধ হওয়ার ঘটনায় কোনো ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। গত ছয় দিনেও প্রকৃত হামলাকারীকে শনাক্ত করা যায়নি। উলটো পিতা সাত্তার গাজীর দায়ের করা মামলায় আল আমিনের স্ত্রী হাফসা বেগম ওরফে আশাকে পুলিশ আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
জানা গেছে, গত রবিবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাতে আল আমিন গাজী ও তার স্ত্রী আশা রাতের খাবার খেয়ে ঘরের জানালা-দরজা আটকে ঘুমিয়েছিলেন। আকস্মিক রাত ১টার দিকে আলামিন তার শরীর জ্বলে-পুড়ে যাচ্ছে বলে চিত্কার করতে থাকলে পাশে ঘুমন্ত স্ত্রীসহ বাড়ির অন্যরা উঠে তাকে এসিডদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা ও পরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে।
পরিবারের দাবি, ঘটনার পর দগ্ধ আল আমিনই দরজা খুলে দিলে স্বজনরা ভেতরে প্রবেশ করে তাকে উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় আল আমিনের স্ত্রী আশাকে একমাত্র আসামি করে তালা থানায় একটি মামলা হয়েছে। আল আমিনের পিতা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। সোমবার ঈদের দিন আশাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই প্রীতিশ রায়।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বন্ধ ঘরে এক বিছানায় ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুধু স্বামীর এসিডদগ্ধ হওয়া ও নিক্ষিপ্ত এসিডের পাত্র খুঁজে না পাওয়ায় তৃতীয় পক্ষকে সন্দেহ করা হচ্ছে। আবার পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে বদ্ধ ঘরে বাইরে থেকে এসিড নিক্ষেপের মতো কোনো সুযোগ বা ফাঁক নেই। সে হিসেবে ভেতর থেকে কেউ হয়ত এ কাজ করেছে। তাই প্রকৃতপক্ষে আল আমিনকে কে এসিড ছুড়েছে সে ব্যাপারে এখনো অন্ধকারে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট সূত্র জানায়, আল আমিন গাজীর শরীরের প্রায় ৪০% পুড়ে গেছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়। তবে কে বা কারা তাকে এসিড নিক্ষেপ করেছে তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন আল আমিন।
প্রসঙ্গত, আল আমিন গাজী পেশায় একজন রড মিস্ত্রি। এক স্ত্রী থাকা অবস্থায় বছর দুই আগে তিনি অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। তবে চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেন তিনি।
