চট্টগ্রামে ভয়াবহ গ্যাস-সংকট, ভারী শিল্পে সরবরাহ বন্ধ

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০০

মহেষখালীতে সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনাল মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অন্য টার্মিনাল থেকে মাত্র ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে চট্টগ্রাম ভয়াবহ গ্যাস-সংকটের কবলে পড়েছে। কর্ণফুলি গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান ভারী শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। চাপ কম থাকায় ছোট কারখানাও চলছে না। শিল্পে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে জনদুর্ভোগ কমাতে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও আবাসিকে পাইপ লাইনে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। গত মঙ্গলবার রাত থেকে গ্যাস-সংকট প্রকট হয়েছে।

জানতে চাইলে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটের উপমহাব্যবস্থাপক মো. নাছির উদ্দিন বলেন, বিরূপ আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল। তাই এলএনজিবাগী কার্গো থাকলেও টার্মিনালে স্থানান্তর করা যাচ্ছে না। এতে মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় সামিট গ্রুপের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যটি থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

কর্ণফুলি গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিড থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ চট্টগ্রামে গ্যাস-সংকট আরো বাড়িয়ে এলএনজি অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চট্টগ্রামে শিল্প খাত। এছাড়া দিনরাত অপেক্ষা করেও সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস মিলছে না। রাস্তায় গ্যাসনির্ভর গণপরিবহনের গাড়ি নেই। ব্যাপক প্রভাব পড়েছে মানুষের জীবনযাত্রায়। রান্নার চুলা জ্বলছে মিটমিট করে। কোনো এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় একেবারেই গ্যাস থাকে না।

নগরীর সিইপিজেড, কর্ণফুলি ইপিজেড, কালুরঘাট, সীতাকুন্ড, নাসিরাবাদ, পতেঙ্গা শিল্প এলাকাগুলোতে গ্যাস-সংকটে শিল্পে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। পাইপ লাইনে চাপ না থাকায় মেশিন চালানো যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা জানান গ্যাস ও বিদ্যুত্ একেই অবস্থা বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় গত ২১ জুলাই থেকে মহেষখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর চট্টগ্রামে গ্যাস নিয়ে দুর্ভোগ নেমে আসে। তখন চট্টগ্রামে এলএনসি সরবরাহ ২৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমিয়ে দৈনিক ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়। এই সময় শিল্পকারখানাগুলো কোনো রকমে চালু ছিল। কিন্তু গত মঙ্গলবার থেকে চট্টগ্রামে সরবরাহ আরো কমিয়ে ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এলে শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক, আবাসিক সব পর্যায়ে বিপর্যয় নেমে আসে। গতকাল নগরীর সব গ্রাহক পর্যায়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্ণফুলি গ্যাস কোম্পানির শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, ‘গ্যাস-সংকটের কারণে আমরা ভারী শিল্পকারখানাগুলোতে আপাতত উত্পাদন বন্ধ রাখতে শিল্পমালিকদের বলেছি। সার ও বিদ্যুেকন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ চালু রেখেছি। জনদুর্ভোগ কমাতে শিল্পের সাশ্রয়কৃত গ্যাস আবাসিক ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সংযোগে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। চট্টগ্রামে জাতীয় গ্রিড থেকে ও এলএনজি বরাদ্দ বাড়ানোর হচ্ছে না। বরং চট্টগ্রামে সংকট বাড়িয়ে এলএনজি অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি আমিরুল হক ইত্তেফাককে বলেন, ‘শিল্পকারখানার উত্পাদর চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে হয়তো আরো এক সপ্তাহ সময় লাগবে। এই পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। বিশেষ করে রপ্তানি খাত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’

ইত্তেফাক/এএম