ঢাকার আরও ৫০ মোড়ে বসবে এআই ট্রাফিক সিগন্যাল: ডিএসসিসি প্রশাসক

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৪

ঢাকার যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রাথমিকভাবে ডিএসসিসির আওতাধীন আটটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা মহানগরের আরো ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এ ধরনের আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শাহবাগ মোড়ে সিগন্যালটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শাহবাগে এআই সিগন্যাল ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

তিনি জানান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় নতুন এই সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন চলাচলকে আরো নিয়মতান্ত্রিক ও গতিশীল করা।

প্রাথমিকভাবে যে আটটি মোড়ে আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে সেগুলো হলো—বাংলা মোটর, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, মিন্টো রোড, কাকরাইল সার্কেল, মত্স্য ভবন, কদম ফোয়ারা, শিক্ষা ভবন ও শাহবাগ মোড়। ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আধুনিক এই সিগন্যাল ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশকে আগের মতো সার্বক্ষণিক দাঁড়িয়ে হাতে সংকেত দিতে হবে না। এতে একদিকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে, অন্যদিকে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশের পেশাগত কষ্টও কমবে। তিনি জানান, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরের আরো ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এ ধরনের আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসসিসির আওতাধীন আরো ২২টি মোড়ে সিগন্যাল চালু করা হবে। তবে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করলেই যানজট পুরোপুরি নিরসন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন আবদুস সালাম। এজন্য চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, সিগন্যাল অমান্য, নির্দিষ্ট লেন ব্যবহার না করা, জেব্রা ক্রসিংয়ে নিয়ম না মানা এবং মোড়ে অবৈধভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি মোড় এলাকায় ভাসমান দোকান বা অন্য কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা রাখা যাবে না।

ডিএসসিসি প্রশাসক আরো বলেন, ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হবে। কেউ বারবার আইন অমান্য করলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল এবং গাড়ির কাগজপত্র জব্দের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএম