প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও পেপার স্প্রে ব্যবহারের মামলায় সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার জগলুল পাশাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির গুলশান জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন। তিনি তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
অন্যদিকে, আসামির পক্ষে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জামিনের আবেদন করেন এবং আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) শুনানির আবেদন জানান। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে ওই দিন জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে গত ৪ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরার বাসা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন। আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ এজাহারভুক্ত ১১১ আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে অবস্থান করেন। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর এবং রাস্তা বন্ধ করে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
মামলায় বলা হয়, খালেদা জিয়া যাতে সমাবেশে যোগ দিতে না পারেন, সে জন্য তার বাসার সামনে ত্রাস সৃষ্টি ও সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়।
পরদিন ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে খালেদা জিয়া সফরসঙ্গীদের নিয়ে সমাবেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে আসামিরা সড়কে বাধা দেন। এ সময় বালুভর্তি ট্রাকসহ বিভিন্ন ট্রাক রাস্তায় রেখে ব্যারিকেড তৈরি এবং নিষিদ্ধ পেপার স্প্রে ব্যবহার করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে খালেদা জিয়াসহ তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার প্রায় ১১ বছর পর ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর গুলশান থানায় মামলাটি করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন।
এ মামলার বাইরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ‘জাল নথি প্রস্তুত ও আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার’ অভিযোগও জগলুল পাশার বিরুদ্ধে রয়েছে।

