আরজি কর হত্যাকাণ্ড: গ্রেপ্তার সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৪

কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার নারী চিকিৎসকের মরদেহ তড়িঘড়ি করে সৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের পানিহাটির সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক নির্মল ঘোষকে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ওডিশা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে নতুন মামলায় তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, ওডিশায় গ্রেপ্তারের পর ট্রানজিট রিমান্ডে নির্মল ঘোষকে কলকাতায় এনে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে হাজির করা হবে।

২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার পর তার মরদেহ পানিহাটি শ্মশানে অস্বাভাবিক দ্রুত সৎকার করা হয়। শুরু থেকেই এই সৎকার প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের প্রশ্ন ওঠে।

নিহত চিকিৎসকের পরিবারের অভিযোগ, নির্মল ঘোষ এবং তৃণমূলের আরও দুই নেতা—পানিহাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সোমনাথ দে ও স্থানীয় তৃণমূল নেতা সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়, মৃত্যের বাবা-মা ও স্বজনদের শেষবারের মতো মরদেহ ঠিকমতো দেখতে না দিয়েই দ্রুত সৎকারের ব্যবস্থা করেন। পরিবারের আপত্তি ও দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবির তোয়াক্কা না করে কোনো ধরনের প্রথাগত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ছাড়াই ‘ভিআইপি মর্যাদা’ দিয়ে তড়িঘড়ি করে মরদেহ দাহ করা হয়। নিহত চিকিৎসকের পরিবারের পক্ষ থেকে মে মাসে আদালতে করা আবেদনে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

সম্প্রতি ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট নিহত চিকিৎসকের পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে নির্মল ঘোষসহ উক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর (FIR) দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে আরজি কর হাসপাতালের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, নার্স এবং পানিহাটি শ্মশানের কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গত রোববার আরজি করের ওই নারী চিকিৎসকের মৃত্যুর দুই বছর পূর্তির দিন পানিহাটির একটি অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন ওই চিকিৎসকের মা–বাবার আপত্তি সত্ত্বেও তার মরদেহ তড়িঘড়ি সৎকার করা হয়েছিল? ওই সময় কোনো ধরনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ছাড়াই মরদেহ সৎকার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এরপর ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট নতুন করে মামলাটি তদন্তের উদ্যোগ নেয়। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, কেন ওই নারী চিকিৎসকের মরদেহ এত দ্রুত সৎকার করা হয়েছিল এবং সৎকারের প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা তথ্যপ্রমাণ নষ্টের চেষ্টা হয়েছিল কি না।

এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই) নির্মল ঘোষকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। সম্প্রতি ব্যারাকপুর পুলিশের এই পদক্ষেপে নির্মল ঘোষের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে পানিহাটি পৌরসভার সামনে স্থানীয় বাসিন্দারা উল্লাস প্রকাশ করেন এবং একে অপরকে মিষ্টি খাওয়ান।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৩ জুলাই নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং এক কোটি রুপির লটারির টিকিট ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সূত্র: আনন্দ বাজার

ইত্তেফাক/এমএসআর