বিতর্কিত ধর্মপ্রচারক ও ইসলামি বক্তা জাকির নায়েকের মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। শুক্রবার তিনি বলেন, যদি এটা প্রমাণিত হয় যে তার (জাকির) সেখানে থাকা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয় তাহলেই তার আবাসিক মর্যাদা বাতিল করা হতে পারে। তবে পুরো বিষয়টিই পুলিশি তদন্তের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও মালয় ডেইলির
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাকির নায়েকের সেখানে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিলের দাবি উঠে। তার ঐ মন্তব্য নিয়ে এখন পুলিশি তদন্ত চলছে। সম্প্রতি তিনি বলেন, ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের চেয়ে মালয়েশিয়ায় থাকা সংখ্যালঘু হিন্দুরা শতগুণ বেশি অধিকার ভোগ করছে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী হিন্দুরা দেশটির চেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বেশি সমর্থন করে। তবে জাকির নায়েক দাবি করেছেন, তার এ বক্তব্যকে ভুলভাবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। আর এ ঘটনার পরই তার স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিলের দাবি উঠে। এ প্রসঙ্গে ঐ দিন মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখন তদন্ত চলছে। তদন্তে জাকির নায়েক যদি দোষী প্রমাণিত হন তাহলে তার আবাসিক মর্যাদা বাতিলের প্রশ্ন উঠে আসবে। তবে সবকিছুর জন্য আমাদের তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে যা দরকার তা হচ্ছে জাকির নায়েককে অনতিবিলম্বে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় ধর্ম ও জাতিগত ইস্যু একটি স্পর্শকাতর বিষয়। দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষ মুসলমান আর বাকিরা চীন ও ভারতের নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। এদের বেশিরভাগই সনাতন ধর্মাবলম্বী। জঙ্গিবাদে অর্থায়নের তদন্তের জেরে ২০১৫ সালে তিনি ভারত ছাড়েন। আর এরপর তাকে স্থায়ীভাবে মালয়েশিয়ায় বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়।
