অবসর-কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সুখবর

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৬:২৫

দীর্ঘদিন ধরে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সুখবর। শনিবার (১৫ আগস্ট) ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও প্রথম ধাপেই শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের সম্পূর্ণ পাওনা হাতে পাচ্ছেন না। সীমিত অর্থের সংস্থান থাকায় এবার আংশিক অর্থ দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে অর্থের সংস্থান অনুযায়ী অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অবসর সুবিধা বোর্ড ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধাভোগীদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি অর্থ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও আইবাস প্লাস প্লাস ব্যবস্থার মাধ্যমে এ অর্থ পাঠানো হবে। ফলে অর্থ পাওয়ার জন্য সুবিধাভোগীদের অফিসে এসে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করা কিংবা কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন হবে না।

প্রথম ধাপে পুরো পাওনা দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের সচিব অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন । অর্থ এককালীন নাকি পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে– এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথম ধাপে নির্ধারিত সংখ্যক আবেদনকারীর অর্থ দেওয়া হবে। পুরো টাকা দেওয়া হবে না।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অবসর সুবিধা বোর্ডের অর্থ পাবেন ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী। আর কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পাবেন ৫৩ হাজার ৪৭৭ জন আবেদনকারী।

এর আগে, প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক ও কর্মচারীকে টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়ায় তা ১ লাখ ২৩ হাজার করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রথম ধাপে একজন শিক্ষক অবসরসুবিধা হিসেবে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং কল্যাণসুবিধা হিসেবে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। তবে পদ ও গ্রেডভেদে এই অর্থের পরিমাণে পার্থক্য থাকবে। 

কল্যাণ ট্রাস্টের ক্ষেত্রে গত ৩০ জুন পর্যন্ত এবং অবসরসুবিধার ক্ষেত্রে ৩১ জুলাই পর্যন্ত যারা আবেদন করেছেন, তারা এই ধাপের অর্থ পাওয়ার আওতায় থাকবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অবসরসুবিধার আওতায় এবার অর্থ পাবেন ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী। এ খাতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি ৫৩ হাজার ৪৭৭টি আবেদনের বিপরীতে কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দেওয়া হবে। এতে প্রয়োজন হবে প্রায় ৫৬৫ কোটি টাকা।

দুই সুবিধার জন্য আবেদনের সংখ্যা আলাদা হলেও একই ব্যক্তি অবসর ও কল্যাণ, দুই ধরনের সুবিধাই পেতে পারেন। ফলে দুই খাতে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৯৬টি আবেদনের বিপরীতে অর্থ দেওয়া হলেও সুবিধাভোগী শিক্ষক-কর্মচারীর প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে কম হবে।

জানা যায়, শিক্ষকদের চাঁদা, ব্যাংকে জমা অর্থের সুদ এবং সরকারের থোক বরাদ্দ ও বন্ড সুবিধার মাধ্যমে অবসর ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ জোগান দেওয়া হয়।

এর আগে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত অবসর সুবিধার জন্য মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং কল্যাণ সুবিধার জন্য ৪ শতাংশ হারে চাঁদা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ভর্তির সময় বছরে একবার ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসর সুবিধা এবং ৩০ টাকা কল্যাণ সুবিধা তহবিলে জমা হয়।

এর আগে, গত ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এনটিএম