কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ ও লাকসামে গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এর প্রভাব পড়ছে গ্যাস চালিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা- ভ্যানসহ বিভিন্ন পরিবহনে। সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাসা বাড়ি পরিবহন খাতসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। গ্যাস না পেয়ে পাম্প থেকে খালি হাতে ফেরার অভিযোগ করেছেন চালকরা।
পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় চালকদের অনেকেই গাড়ি বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন। বিড়ম্বনায় পড়া যাত্রীদের অধিকাংশই দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় পার হতে দেখা গেছে। কেউ কেউ মোটর সাইকেলে রাইড শেয়ার করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বেশ কয়েকদিন ধরে গ্যাসের কিছুটা সংকট দেখা দিলেও ১২ আগস্ট বুধবার সন্ধ্যার পর লাকসাম মনোহরগঞ্জে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন গ্যাসচালিত অটোরিকশা, পিকআপ ভ্যান ও বিভিন্ন পরিবহন মালিকরা।
জেলার মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট উপজেলায় কোনো গ্যাস পাম্প না থাকায় উভয় এলাকার গ্যাসচালিত পরিবহন চালকরা ছুটছেন প্রায় ২০ কি.মি দূরবর্তী লাকসাম উপজেলার এম. আর ফিলিং স্টেশনে। অনেকেই পাম্পে এসে জানতে পারছেন যে সেখানে গ্যাস নেই। ফলে বাধ্য হয়ে খালি হাতে ফিরছেন চালকরা।
কেউ কেউ একটু গ্যাস পাওয়ার আশায় লাকসাম থেকে আরও ৮ কিলিমিটার দূরে বিজরা পেট্রোল পাম্পে ভিড় করছেন আবার কেউ যাচ্ছেন জেলা শহরে। এদিকে বাসা বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজকর্মে চরম দুর্ভোগে পড়ার কথা জানিয়েছেন লাকসাম পৌর এলাকার বাসিন্দারা।
মনোহরগঞ্জ উপজেলার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক জহির উদ্দিন বলেন,
মনোহরগঞ্জ উপজেলা সদরের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো পেট্রোল পাম্প নেই। আমরা পার্শ্ববর্তী লাকসাম উপজেলায় এমআর ফিলিং স্টেশনে গিয়ে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস ভর্তি করে নিয়ে আসি। গত দুদিন ধরে সেখানেও মিলছে না গ্যাস। হতাশ হয়ে সেখান থেকেও খালি হাতে ফিরে আসাতে হচ্ছে। গ্যাস না পেয়ে সিএনজি চালানো আপাতত বন্ধ রেখেছি।
পাম্প থেকে ফিরে অনেকেই এমন অভিযোগ করেছেন।
একই অভিযোগ করেন লাকসাম উপজেলার এমআর ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে আসা নাঙ্গলকোট-লাকসাম রুটের সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নাছির উদ্দিন। তিনি বলেন, আশপাশের এলাকায় আর কোনো গ্যাস পাম্প না থাকায় গ্যাস নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছি। এখানে গ্যাস না পেয়ে লাকসাম থেকে আরও প্রায় ৮ কি.মি. দূরে বিজরা বাজারের একটি গ্যাস পাম্পে গিয়েছিলাম। সেখানে গ্যাস পাবেন এমন কথা শুনে অন্তত দুই শতাধিক ছোট বড় পরিবহনের পেছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অবশেষে গ্যাস নিয়ে গন্তব্যে ফিরেছি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, একটু গ্যাস পেলেও পথেই ফুরিয়ে যায়, সাচ্ছন্দে গাড়ি চালাতে পারছি না।
লাকসাম পৌর এলাকার নশরতপুরের স্থায়ী বাসিন্দা আবুল কাশেমের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, গত তিন দিন ধরে গ্যাস সংকটে ভুগছেন। লাইনে গ্যাস না থাকায় আপাতত লাকড়ির চুলা কিনে প্রয়োজনীয় কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। গ্যাস সরবরাহ না থাকায় নিদারুণ ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি শিগগিরই গ্যাস সরবরাহের দাবি জানান।
মেসার্স এম.আর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার অমূল্য চন্দ্র দাস বলেন, বুধবার (১২ আগস্ট) বিকাল ৪টা থেকে লাইনে গ্যাস সাপ্লাই বন্ধ রয়েছে। লাইনে গ্যাস না থাকায় সিএনজি কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্যাস প্রাপ্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের সরবরাহের কথা জানান তিনি।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপ-আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয় লাকসাম এর উপ-ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মারুফ হাসান বলেন, বঙ্গোপসাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালু হলে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

