রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত থাকবে :মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৩:০২

কক্সবাজারে তিনদিনের সফর শেষ করলেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালামের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকেই নিজ দেশে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকারও ফিরিয়ে দিতে হবে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে নিয়ে কাজ করছে। এ ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত থাকবে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, দ্রুত সময়ে বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে গিয়ে কক্সবাজারের পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি লাঘবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সহায়তা  করবে। কেবল রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের জন্যও যুক্তরাষ্ট্র সরকার সহায়তা অব্যাহত রাখবে। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয় জনগণের  প্রশংসা করেন তিনি।

গতকাল সফরের শেষ দিনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে যান। সেখানে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এরপর তিনি জেলা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

গত মঙ্গলবার কক্সবাজার পৌঁছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ওই দিন নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুনধুম তুমব্রু সীমান্তের শূন্য রেখার কোনার পাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বালুখালী ট্রানজিট ক্যাম্প, কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। বুধবার টেকনাফের লেদা, নয়াপাড়া ও শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। উপজেলার হ্নীলার মৌলভী বাজারে ইউএসএআইডি এর আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত বেসরকারি ক্লিনিক সূর্যের হাসি পরিদর্শন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এসময় তিনি নির্যাতিত রোহিঙ্গা, ক্যাম্পে দায়িত্বরত সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।