শিপইয়ার্ডে দুর্ঘটনা: ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে পলাশের চিরবিদায়

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯:০৯

এক বছর আগে বিয়ে করেছিলেন পলাশ দাস (৩৫)। সংসারে নতুন অতিথি আসার অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন তিনি ও তার স্ত্রী ভূমিকা দাস। আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ভূমিকার সন্তান জন্মের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি ছিল। তবে সেই সন্তানের চেহারা আর দেখা হলো না পলাশের।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে পুরোনো জাহাজ কাটার সময় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে প্রাণ হারান পলাশ। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

পলাশ সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী সুনিঠাকুর জেলেপাড়ার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার নরেন্দ্র দাসের ছেলে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে পলাশ ছিলেন তৃতীয়।

জীবিকার তাগিদে প্রায় ১০ বছর ধরে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে ওয়েল্ডার হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। বছরের পর বছর ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেও পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় প্রতিদিন কর্মস্থলে ছুটে যেতেন পলাশ। কিন্তু কর্মস্থলের সেই দুর্ঘটনাই কেড়ে নিল তার প্রাণ, থামিয়ে দিল অনাগত সন্তানকে ঘিরে দেখা তার পরিবারের স্বপ্ন।

পলাশের ছোট ভাই শুভ দাস বলেন, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পলাশের সঙ্গে স্থানীয় ভূমিকা দাসের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। স্ত্রী ভূমিকা এখন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অনাগত সন্তানকে ঘিরে ছিল তাদের নানা পরিকল্পনা। কিন্তু একটি বিস্ফোরণ মুহূর্তেই সেই স্বপ্ন, সংসারকে তছনছ করে দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, তিনি চুল কাটার কাজ করেন। শুক্রবার সকালে দুর্ঘটনার খবর শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, শিপইয়ার্ডের দরজা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পরে ৯৯৯-এ ফোন করে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেন তিনি। এরপর ভাই পলাশকে নিয়ে চমেক হাসপাতালে যান। চিকিৎসক পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। 

পলাশের বন্ধু দিলীপ দাসের অভিযোগ, শিপইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। তিনি বলেন, এই ইয়ার্ডে নিরাপত্তা বলতে কিছুই ছিল না। ছিল মাত্র হেলমেট আর জুতা। কোনও অ্যাম্বুলেন্সও ছিল না।

পলাশের মৃত্যুর খবরে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন তার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ভূমিকা দাস। 

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে পুরোনো জাহাজ কাটার সময় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জন হয়েছে। এ ঘটনায় আহত কয়েকজন এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ইত্তেফাক/এমএস