নেত্রকোনায় গোরস্থানের আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৩৪

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুরোনো একটি গোরস্থানের আধিপত্য ও সেখানে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১২০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে রংছাতি ইউনিয়নের আমগড়া, পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়ায় প্রায় এক ঘণ্টা চলা এই সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আমগড়া এবং পুলিয়া-পানেশ্বর পাড়ার মধ্যবর্তী ১৮ কাঠা বা ১৪৪ শতাংশ আয়তনের একটি পুরোনো গোরস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। আমগড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা ওই গোরস্থানের রাস্তার পাশে দোকান নির্মাণ করে বাজার বসানোর উদ্যোগ নিলে পানেশ্বর পাড়ার লোকজন বাধা দেন। তাঁদের দাবি, জায়গাটি ওয়াকফ সম্পত্তি এবং শুধু কবরস্থান হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত।

প্রায় ১৫ দিন আগে ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ হলেও বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। শুক্রবার সকালে গোরস্থানে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়ার ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘর ও দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। বিয়ের বাড়ির গেট এবং একটি গরুর খামারেও ভাঙচুর হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, হামলার সময় প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে।

সংঘর্ষে দুই পক্ষের কমপক্ষে ১২০ জন আহত হয়েছেন। আমগড়া, নল্লাপাড়া ও হাসনাগাঁও গ্রামের ৫৪ জন আহত বলে জানা গেছে। কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পানেশ্বর পাড়ার আব্দুল ওয়াহাব ও হোসেন মিয়া বলেন, 'গোরস্থানটি ৮০ থেকে ৯০ বছর ধরে আমাদের বাপ-দাদারা হেফাজত করে আসছেন। সম্প্রতি সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে মাটি কাটার কাজ হয়েছে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য দেয়াল ও পিলারের জন্য ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।' তাঁদের অভিযোগ, আমগড়ার কয়েকজনের নেতৃত্বে শুক্রবার সকালে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়েছে। গোরস্থানের দলিল তাঁদের পক্ষে আছে উল্লেখ করে তাঁরা প্রশাসনের মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানান।

অন্যদিকে আমগড়া গ্রামের কামাল পাশা দোকান নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গোরস্থানের আধিপত্য নিয়েই সংঘর্ষের সূত্রপাত। তাঁর দাবি, সালিশের পর পানেশ্বর পাড়ার লোকজন ওই স্থানে গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়।

রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল বলেন, 'ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।' তিনি জানান, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গোরস্থানের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদকে দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকা এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

ইত্তেফাক/এনএন