ভিকারুননিসায় আন্দোলন স্থগিত

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৩:০২

অধিকাংশ দাবি মেনে নেওয়ায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন স্থগিত করেছে। পাশাপাশি আজ থেকে তারা পরীক্ষায় অংশ নেবে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে শিক্ষক এবং গভর্নিং বডির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেয়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আনুশকা রায় জানায়, আমাদের দাবির প্রায় সবগুলো মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে দুটি দফা স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে নেই। এগুলো মন্ত্রণালয় ও সরকারের ব্যাপার, তদন্তের ব্যাপার। তাই আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছি। শুক্রবার থেকে আমরা পরীক্ষায় অংশ নেব। এই শিক্ষার্থী আরও জানায়, আমাদের কোনও নির্দোষ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী যাতে এই ঘটনায় হেনস্থা না হয় আমরা সেটা চাই। ঘটনার একটি সুষ্ঠু তদন্ত চাই। দোষীরা যাতে বিচারের মুখোমুখি হয়।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির প্রভাতী শাখার নবম শ্রেণির বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে (১৪) আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় স্কুলটির শিক্ষক হাসনা হেনার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাঈদ এ আদেশ দেন। বুধবার রাতে হাসনা হেনাকে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।  মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ভিকারুননিসার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখা প্রধান জিনাত আখতার পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। জানা গেছে. গ্রেফতার শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে গতকাল স্কুলের সামনে বিক্ষোভ করেছে একদল ছাত্রী।

অন্যদিকে অরিত্রীর আত্মহননের ঘটনায় তার মা-বাবার কাছে পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার। শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘অরিত্রীর ঘটনার জন্য আমরা মর্মাহত। গভর্নিং বডির পক্ষ থেকে এ ঘটনায় অরিত্রীর বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চাই। প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর স্বার্থে আমার পদত্যাগের প্রয়োজন হলে আমি পদত্যাগ করব।’

গত সোমবার ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও ভাইস প্রিন্সিপালের কক্ষে বাবা-মাকে অপমান করলে শান্তিনগরের বাসায় আত্মহত্যা করে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারী। এ ঘটনায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, শাখা প্রধান ও শ্রেণি শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়। তাদের আসামি করে পল্টন থানায় মামলা করেন অরিত্রীর বাবা।