অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর ‘রহস্য’ ফাঁস করলেন অধিনায়ক

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ২০:৩২

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পেছনে দলের মানসিকতার পরিবর্তনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বিশেষ করে পেস বোলারদের মানসিকতায় বড় পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন তিনি। সতীর্থদের পারফরম্যান্সে গর্বিত শান্ত এখন এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চান।

ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো দেশটির মাটিতে টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন হাসান মাহমুদ। 

ম্যাচ শেষে নাজমুল হোসেন শান্তকে প্রশ্ন করা হয়, এটিই কি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়? জবাবে তিনি বলেন, ক্রিকেটের যেকোনো ফরম্যাট বিবেচনায় এখন পর্যন্ত এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। তবে এই জয়েই সন্তুষ্ট না থেকে সামনে আরও ভালো ক্রিকেট খেলার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। শান্ত বলেন, নিজেদের কাছে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে এবং ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।

টেস্টে ভালো ফল করতে হলে টানা পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলার প্রয়োজন উল্লেখ করে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, সেশন ধরে খেলতে পারলে এবং নিচের সারির ব্যাটাররা গুরুত্বপূর্ণ কিছু রান যোগ করতে পারলে দল আরও ভালো ফল করতে পারবে।

ঐতিহাসিক এই জয়কে নিজের অধিনায়কত্বের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন শান্ত। তিনি বলেন, দলের সবাই দুর্দান্ত খেলেছে এবং প্রত্যেকে কঠোর পরিশ্রম করেছে। শুধু স্পিন বোলিংয়ের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশ এবার পেস বোলিং আক্রমণকেও শক্তিশালী করেছে। এই পরিবর্তনই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সাফল্য এনে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

পেসারদের মানসিকতার পরিবর্তনই বড় অর্জন

শান্তর মতে, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে পেসারদের মানসিকতায়। তিনি বলেন, পাঁচ বছর আগেও বাংলাদেশের পেসাররা টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চাইতেন না। এখন দল নিয়মিত টেস্ট খেলছে এবং পেসাররাও নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। বিশ্বমানের পারফরম্যান্স করার আকাঙ্ক্ষাও তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছে।

শান্ত বলেন, এই মানসিকতার পরিবর্তনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মুশফিকুর রহিম ও মোমিনুল হকের মতো সিনিয়র ক্রিকেটাররা তরুণদের সব সময় উৎসাহিত করছেন বলেও জানান তিনি।

বোলারদের পাশাপাশি ব্যাটারদেরও প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বিশেষ করে তানজিদ হাসানের ব্যাটিং আলাদা করে উল্লেখ করেন তিনি। তানজিদ সাদা বলের ক্রিকেটে আগ্রাসী ব্যাটিং করতে পছন্দ করলেও এই টেস্টে পরিস্থিতি বুঝে ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করেছেন বলে জানান শান্ত। বলের মান বুঝে শট খেলেছেন তানজিদ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে তানজিদ ১০১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন, যা বাংলাদেশকে ৪২৬ রানের বড় সংগ্রহ গড়তে সাহায্য করে। শান্ত বলেন, টপ অর্ডার ব্যাটার হিসেবে তানজিদের কাছ থেকে দল এমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রত্যাশা করে, যা তিনি এই ম্যাচে করে দেখিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই জয়কে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের নতুন মানসিকতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন শান্ত। তবে একটি ঐতিহাসিক জয়কে ভবিষ্যতের সাফল্যের ভিত্তি করতে হলে ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ এখন সিরিজ জয়ের সুযোগের সামনে রয়েছে। 

ইত্তেফাক/এএম