বরগুনার বালিয়াতলী ইউযনিয়নে পায়রা নদীতে গোসল করতে নেমে জুঁই (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের লতাকাটা খেয়াঘাটসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ জুঁই ঢাকার মিরপুর এলাকার বাসিন্দা মো. জনির মেয়ে।
স্বজনরা জানান, বাবার সঙ্গে সে বরগুনার বালিয়াতলী ইউনিয়নের লতাকাটা এলাকায় নানা শানু মৃধার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। সকালে এক স্বজনের সঙ্গে পাশের পায়রা নদীতে গোসল করতে নামে সে। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় গোসলের একপর্যায়ে স্রোতের টানে পানিতে তলিয়ে যায় জুঁই। চোখের সামনে জুঁইকে নদীর পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে স্বজনরা চিৎকার শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত নদীতে নেমে এবং জাল টেনে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
জুঁই নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে নদীর পাড়ে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আনন্দঘন নানাবাড়ির পরিবেশ মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে। স্বজনরা প্রিয় জুঁইয়ের ফিরে আসার আশায় নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন।
খবর পেয়ে বরগুনা সদর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে। নিখোঁজ স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারে পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে।
বরগুনা সদর ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. ইমদাদুল হক বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছেন। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় এখন পর্যন্ত নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে।
বরগুনা সদর থানার ওসি মো. শাহাদাৎ হাচনাইন পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে বাবুগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। নিখোঁজ কিশোরীর সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

