কক্সবাজার সাগরপারে দখল হওয়া ১০ একর জমি উদ্ধার

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪০

কক্সবাজার শহরের কলাতলী হোটেল মোটেল জোনের সুগন্ধা পয়েন্টে মধ্যরাতে দখল হওয়া অন্তত ১০ একর খাস জমি উদ্ধার করেছে প্রশাসন। 

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে এ জমি উদ্ধার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হোসেন সায়েম।

তানভীর হোসেন সায়েম সাংবাদিকদের বলেন, রাতের আঁধারে সরকারি খাস খতিয়ানের এ জমি দখল করে টিন ও বাঁশের ঘেরা দেওয়া হয়েছে। তবে কারা এ দখলের সঙ্গে জড়িত তা এখনও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার করা জমিতে সরকারি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হবে।

গত শুক্রবার ও শনিবার রাতে সুগন্ধা পয়েন্ট দিয়ে সৈকতে প্রবেশের রাস্তার পাশে টিন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে সরকারি জমি দখল করে প্রভাবশালী চক্র। আশপাশের ব্যবসায়ীদের দাবি, ওই জমির বর্তমান বাজারমূল্য ৫০০ কোটি টাকার বেশি।

এর আগে আজ দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, কলাতলী হোটেল মোটেল জোনের সুগন্ধা পয়েন্টে প্রধান সড়কের পশ্চিম পাশে দখল করা জমিটি সৈকতের লাগোয়া ঝাউবাগান পর্যন্ত টিন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এ সময় কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত শুক্রবার মধ্যরাতে ৩০-৪০ জন শ্রমিক টিন ও বাঁশ দিয়ে জমিটি ঘেরা শুরু করেন। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ঘেরা শেষ হয়। এ সময় কয়েকজন হকারের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটির জেরে গত শনিবার বিকেলে লাঠিসোটা নিয়ে বেড়ার একটি অংশ ভাঙচুর করেন হকাররা। গত শনিবার রাতে নতুন করে আবার ঘেরা হয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০০৩ সালে সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন প্রায় ১৩০ একর সরকারি জমিতে হোটেল মোটেল জোন গড়ে তোলা হয়। ওই জমিতে ৮৭টি প্লট তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ৯৯ বছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বরাদ্দের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ না করায় ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি সংসদীয় কমিটি এবং ভূমি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক ৫৯টি প্লটের ইজারা বাতিল করেন। 

এ আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ইজারাদাররা হাইকোর্টে রিট করেন। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তা খারিজ করে দেন। এর পরপরই জেলা প্রশাসন ইজারা বাতিল হওয়া প্লটগুলো দখলে নেন। গত শুক্রবার ও শনিবার রাতে দুই দফায় অবৈধভাবে দখলে নেওয়া জমিও বাতিল হওয়া প্লটের মধ্যে পড়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, বাতিল হওয়া এসব প্লটে নতুন করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা ইজারা দেওয়া আইনগতভাবে বৈধ নয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে উচ্ছেদ করা হবে।

 
ইত্তেফাক/এমএস