রাঙ্গামাটিতে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে হত্যা করে পুলিশের কাছে যুবকের আত্মসমর্পণ

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৫

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার জিবতলী ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়ায় প্রতিবেশী যুবকের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। নিহত রিপন চাকমা (১২) কাপ্তাই উপজেলার হরিনছড়া এলাকার লক্ষছা চাকমার ছেলে। 

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় খুনি স্বপন চাকমা (২২) নিজেই কাপ্তাই সার্কেল অফিসে গিয়ে পুলিশের নিকট হত্যার কথা বলে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছে বলে জানা গেছে। রাঙ্গামাটির কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জসীম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রিপন চাকমা কাপ্তাই উপজেলার হরিনছড়া এলাকার লক্ষছা চাকমার ছেলে। পড়াশোনার জন্য সে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার জীবতলীর হেডম্যান পাড়ায় তার খালু আশেনি কুমার চাকমার বাড়িতে থাকতো এবং স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেনীতে পড়াশুনা করতো।

গত সোমবার বিকেল আনুমানিক পাচটার সময় শিক্ষার্থী রিপন চাকমা প্রতিবেশীর বাড়ির কাছ থেকে পানি সংগ্রহ করতে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল স্বপন চাকমা। একপর্যায়ে স্বপন চাকমা শিশুটিকে ধরে একটি ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে ধারালো চাকু দিয়ে রিপনের বুকে পরপর দুইবার আঘাত করা হয়। পরে সে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে তার গলায় ছুরি দিয়ে জবাই করে গুরুত্বর আঘাত করা হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটির মৃত্যুর পর ঘাতক স্বপন চাকমা পাশ্ববর্তি পুলিশের কাপ্তাই সার্কেল অফিসে গিয়ে হত্যা করার কথা বলে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

ঘটনার খবর পেয়ে রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাত দশটার সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘাতক স্বপন চাকমাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসীম উদ্দিন ঘাতকের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান,ধারনা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। নিহত শিক্ষার্থী রিপন চাকমার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শওকত আকবর খান, একটি শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। 

ইত্তেফাক/এএইচপি