নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজের হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্ধারিত ছুটির সময়ের আগেই শিক্ষার্থীদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া, নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া এবং ক্লাস চলাকালে ঘুমানো ও মোবাইলে ফেসবুক ব্যবহারের মতো ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণেরও অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি এসব অভিযোগ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবালের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
জানা গেছে, গত রোববার দুপুর ২টার দিকে চর ঈশ্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে যান ইউএনও রাসেল ইকবাল। এ সময় দক্ষিণ রাজের হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি সড়ক পরিদর্শন করছিলেন তিনি। তখন একদল শিক্ষার্থী ইউএনওর কাছে এসে দাঁড়ায়।
শিক্ষার্থীরা কোথায় যাচ্ছে জানতে চাইলে তারা জানায়, তাদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রায়ই তাদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসা, উপস্থিত থাকলেও নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া, ক্লাস চলাকালে ঘুমানো ও মোবাইলে ফেসবুক দেখায় ব্যস্ত থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের অশোভন আচরণের অভিযোগও করা হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনে ইউএনও তাদের সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে যান। তবে সেখানে গিয়ে কোনো শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। পরে শিক্ষকদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নেন না এবং ক্লাস চলাকালে অনেক সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। এ ছাড়া কোনো কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলেও অভিযোগ তাদের।
অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আমাদের ছেলেমেয়েরা জানিয়েছে, শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং যথাযথভাবে ক্লাসও নেন না। শিক্ষকরা যদি ক্লাস ফাঁকি দেন, ক্লাস চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন কিংবা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন, তাহলে তারা কী শিখবে? বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ধরনের অনিয়মের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজল রানী পাল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। তাই শিক্ষার্থীরা আগে ছুটি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল। তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই নির্ধারিত সময়ের একটু আগে ছুটি দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, আমার কয়েকজন সহকারী শিক্ষকের ক্লাস ফাঁকি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আগেই অবহিত করেছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্তও হয়েছে। কিন্তু এরপরও তারা নিজেদের আচরণে পরিবর্তন আনেননি।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, ‘অনিয়মের বিষয়ে আমরা অবহিত হয়েছি। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। কৈফিয়ত পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, ‘নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে আমি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শনে বের হয়েছিলাম। ওই বিদ্যালয়ের সামনেও একটি রাস্তা ছিল, সেখানে যাওয়ার পর ছাত্রছাত্রীরা আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য দাঁড়িয়েছিল। তখন তাদের অভিযোগগুলো শুনি। পরে তাদের নিয়ে আবার বিদ্যালয়ে গিয়ে কোনো শিক্ষককে পাইনি। বিষয়টি আমি শিক্ষা কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

