শ্রীপুরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, গণধোলাইয়ের পর পুলিশে সোপর্দ ৪

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০০:৪৪

গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীসহ চারজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের গণপিটুনি দেয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে কৌশলে ডেকে আনত। পরে তাদের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে স্থানীয় একটি কলেজের তিন শিক্ষার্থী রয়েছে—যাদের দুজনের বয়স ১৭ বছর এবং অপরজন মাহবুব (২০)। এ ছাড়া চতুর্থ ব্যক্তি হলেন ওই বাড়ির মালিকের স্ত্রী সেলিনা আক্তার।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় খোকন ও তার স্ত্রী সেলিনা দীর্ঘদিন ধরে সন্ধ্যার পর নিজেদের বাড়িতে মেয়েদের নিয়ে আসতেন। এরপর সুকৌশলে বিভিন্ন ছেলেকে সেখানে এনে আপত্তিকর দৃশ্য ভিডিও করে টাকা আদায় করতেন।

নির্যাতনের শিকার মনির হোসেন নামের এক ভুক্তভোগী জানান, গত শনিবার (১৫ আগস্ট) তাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে একটি ঘরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর আপত্তিকর ভিডিও ধারণের পাশাপাশি তার ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পায়ের নখ, হাঁটু ও হাতের নখে আঘাত করে তার কাছে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে টাকা পরিশোধ করেই তিনি সেখান থেকে মুক্তি পান।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজাহারুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে এই চক্রটি ইতিপূর্বেও প্রেমের ফাঁদ বা ‘হানিট্র্যাপ’ ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তিকে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, হানিট্র্যাপের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে চারজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন