দুই ছাত্রীকে মূত্র মেশানো পানি পান করাল ছাত্র, প্রধান শিক্ষক বললেন—‘চকলেট খাও, ভালো লাগবে’

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৫

ভারতের মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই ছাত্রীকে বোতলে প্রস্রাব মেশানো পানি পান করানোর অভিযোগ উঠেছে তাদেরই এক সহপাঠীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে প্রিন্সিপালের (প্রধান শিক্ষক) কাছে গেলে তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং ছাত্রীদের ১০ রুপি দামের একটি চকলেট খেতে বলেন। সোমবার গুনা জেলার অ্যারন ব্লকের ওই স্কুলে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।

গুনা জেলার ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার কানিয়াল জানান, দুই ছাত্রী অভিযোগ করেছে যে তাদের বোতলে প্রস্রাব মিশিয়ে পান করতে বাধ্য করেছে কয়েকজন সহপাঠী। এই গুরুতর বিষয়ে তারা প্রিন্সিপালের কাছে অভিযোগ জানালে তিনি অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করেন। তিনি ছাত্রীদের বলেন, ‘তোমাদের মুখের স্বাদ যদি খারাপ হয়ে থাকে, তবে ১০ রুপি দিয়ে একটি চকলেট খেয়ে নাও।’

ম্যাজিস্ট্রেট কানিয়াল আরও জানান, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পেছনে পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্র ছাড়াও আরও কয়েকজন ছেলে জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ছাত্র ও তার অভিভাবকদের তলব করা হয়েছে এবং প্রিন্সিপালকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার ভুক্তভোগী ছাত্রীদের ক্ষুব্ধ পরিবার ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা স্কুলে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁরা অভিযুক্ত ছাত্র ও প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন এবং একপর্যায়ে স্কুল ক্যাম্পাসে তালা ঝুলিয়ে দেন।

অ্যারনের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) মঞ্জুষা খাত্রী বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিশাল পুলিশ বাহিনীসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা ভুক্তভোগী ছাত্রী, তাদের পরিবার ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত বক্তব্য রেকর্ড করেন।

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তহসিলদার এবং ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তাকে (বিইও) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে বিইওকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এনএন