কলকাতায় আগুনে বাংলাদেশি নিহত: হোটেলের মালিকেরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৩২

কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে একাধিক হোটেল ও গেস্টহাউস থাকা এক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যুর পরও ভবনের মালিক এবং সেখানে পরিচালিত হোটেল-গেস্টহাউসগুলোর মালিকদের সন্ধান মিলছে না। এই ঘটনার পর তারা কেউ ফোন ধরছেন না, আবার কারও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এতগুলো মানুষ প্রাণ হারানোর ঘটনায় মালিকদের ভূমিকা, ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং হোটেল পরিচালনার অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানের খবরে বলা হয়েছে, আজ বুধবার ভোরের ওই আগুনে নিহত নয়জনের মধ্যে দুই নারী ও এক শিশু রয়েছে। পুলিশ ও পশ্চিমবঙ্গ ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিসেস বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আগুনে পুড়ে নয়জনের মৃত্যু হয়নি। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশ পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল বা সিট গঠন করেছে। শহর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একজন ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা দলটির নেতৃত্ব দেবেন। ভবনটির আওতাধীন নিউ মার্কেট থানায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা করেছে। রাজ্য দমকল দপ্তরও আলাদা অভিযোগ দায়ের করেছে।

মালিকদের খোঁজ মিলছে না
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই ভবনের মালিক এবং সেখানে পরিচালিত হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোর মালিকরা যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। হোটেলের কর্মী ও কেয়ারটেকাররা জানিয়েছেন, মালিকদের কেউ মোবাইল ফোন বন্ধ করে দিয়েছেন, আবার কেউ ফোন করলেও সাড়া দিচ্ছেন না।

নয়জনের মৃত্যুর পর মালিকদের এভাবে যোগাযোগের বাইরে থাকা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তদন্তের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ, একই ভবনের বিভিন্ন তলায় আলাদা আলাদা হোটেল ও গেস্টহাউস পরিচালিত হচ্ছিল। ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ এবং এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে পরিচালনার অনুমতি পেয়েছিল, তা এখন তদন্তের আওতায় আসছে।

অনুমতি দিয়েছিল কারা, প্রশ্ন মন্ত্রীর
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও হোটেলগুলোর অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ন্যূনতম অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও দমকল বিভাগ কীভাবে হোটেল চালানোর অনুমতি দিল। সিইএসসি লিমিটেড কীভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিল এবং কলকাতা পুরসভার কর্মকর্তারা কী করছিলেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ইত্তেফাক/এনএ