আগুনে ৯ জনের প্রাণহানি, কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল বন্ধের নির্দেশ

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৩৩

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হোটেলটিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। সেই সঙ্গে শহরের প্রতিটি বাণিজ্যিক কাঠামোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে ১৬টি বরোতেই পৃথক পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

পুর প্রশাসন সূত্রের খবর, আগামী ২৫ আগস্ট থেকে শহরের ১৬টি বরোর অধীনে থাকা সব বাণিজ্যিক আবাসন, মার্কেট, হোটেল এবং জনসমাগমস্থলগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ও অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করবে এই বিশেষ দলগুলো। আগামী এক মাসের মধ্যে কমিটিকে তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

সুরক্ষার পাশাপাশি আইনি বৈধতা যাচাই করতে এই তদন্ত কমিটিতে পুরসভার লাইসেন্স বিভাগকেও যুক্ত করা হয়েছে। যৌথ এই পর্যবেক্ষণ দলে কেএমডিএ, কলকাতা পুরসভা, কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং সিইএসসি-র প্রতিনিধিরা যৌথভাবে থাকবেন।

ঘটনায় পুরসভার নজরদারির খামতি ছিল বলে স্বীকার করে নিয়েছেন পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। তিনি জানান, নজরদারির প্রক্রিয়ায় কোথায় গাফিলতি ছিল বা কোথায় ভুলত্রুটি থেকে গিয়েছে, তা খুঁজে বের করতে বিল্ডিং বিভাগের কাছ থেকে বিশদ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।

একই সঙ্গে লাইসেন্স ও বিল্ডিং, উভয় বিভাগেই কাজের ক্ষেত্রে কোনও উদাসীনতা ছিল কি না, তাও কড়া নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তবে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও হোটেল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন রেখেছেন পুর কমিশনার। তার স্পষ্ট বার্তা, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সুরক্ষা বিধি মেনে চলা এবং সচেতন থাকার দায় ব্যবসায়ীদেরও নিতে হবে।

ইতোমধ্যে নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বছরের পর বছর ধরে শহরে অপরিকল্পিতভাবে পরিকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ কর দেয়া হয়। প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপক নিয়মকানুন এবং ন্যূনতম সুরক্ষা বিধি তোয়াক্কা না করেই বহুতল ভবনগুলোতে হোটেল ও অন্যান্য ব্যবসার অনুমতি দেয়া হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: Channel24

ইত্তেফাক/এনএ