ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে রোগীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ২১:৫২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘প্রয়াস’ নামে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে মো. ফোরকান (২৯) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগে উঠেছে। সেখানে ভর্তি করার মাত্র ৫ দিনের মাথায় ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন। পরিবারের অভিযোগ, ফোরকানকে প্রতিষ্ঠানটির স্টাফরা মারধর করে তাকে হত্যা করেছে।

সর্বশেষ বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ফোরকানের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত প্রয়াস নামে এক মাদক নিরাময় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটেছে বলে ভাষ্য পরিবারের।

নিহত মো. ফোরকান মিয়া জেলার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামের মো. রশিদ মিয়ার ছেলে।

নিহত ফোরকান মিয়ার বড় ভাই মো. ইমন মিয়া জানান, তার ভাই ফোরকান মিয়া কাতার প্রবাসী। কয়েক মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে আসেন। আসার কিছুদিন পর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। গত শুক্রবার ৭০ হাজার টাকা চুক্তিতে তিন মাসের জন্য ফোরকান মিয়াকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ‘প্রয়াস’ নামে একটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুর্নবাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ভর্তি করার সময় তাদেরকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা পর্যায়ক্রমে দেওয়ার কথা ছিলো।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রয়াস থেকে ফোনে জানানো হয়, ফোরকান অসুস্থ। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফোন পেয়ে আমরা দ্রুত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে আসি। কিন্তু এখানে ফোরকানকে পাওয়া যায়নি। পরে সেখান থেকে প্রয়াস  মাদক চিকিৎসা ও পুর্নবাসন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে একটি লাশবাহী গাড়িতে আমার ভাইয়ের লাশ। অফিসে বাইরে থেকে তালা দিয়ে পুর্নবাসন কেন্দ্রের সবাই চলে গেছে। পরে ৯৯৯ ফোন দিয়ে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসি।

তিনি বলেন, আমার ভাইকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে পুর্নবাসন কেন্দ্রের লোকজন তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমরা শুনেছি এর আগেও এখানে নাকি এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আমার ভাই হত্যার বিচার চাই।

প্রয়াস মাদক চিকিৎসা ও পুর্নবাসন কেন্দ্রের পরিচালক মো. রুবেল জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফোরকান বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হয়। আমরা তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুল হক রনি জানান, ফোরকানকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পর প্রয়াস কেন্দ্রের কয়েকজন রোগী আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এপি