'বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ' বলে বিদায় নিলেন মির্জা ফখরুল

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৫

দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ের কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব ও আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (১৯ আগস্ট) দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি শেষবারের মতো ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ’ স্লোগান লিখে সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

পোস্টে মির্জা ফখরুল লেখেন, প্রিয় নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে তার সর্বশেষ বিদায় নেওয়ার সময় এসে গেছে। তিনি শেষবারের মতো ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ’ বলে নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছেন এবং নিজেকে ‘আপনাদের বিশ্বস্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর’ হিসেবে পরিচয় দেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঠিক আগের দিন এমন বিদায়ী বার্তায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। দিনভর নানা রাষ্ট্রীয় ও দলীয় কার্যক্রমে অংশ নেন তিনি। সকালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থিত থাকার পর বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে যোগ দেন মির্জা ফখরুল।

দল ও সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ পথচলার শেষলগ্নে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে শেষ বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল আবেগাপ্লুত হয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদেন। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের দোয়া চান এবং আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান। এ প্রসঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই সভায় মির্জা ফখরুলের আবেগ দেখে উপস্থিত সবার চোখেই পানি চলে আসে। দীর্ঘদিনের সংগ্রামী মহাসচিবের এই বিদায় একই সঙ্গে আনন্দ ও বেদনার অনুভূতি তৈরি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিএনপিতে যোগদানের পর থেকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ দায়িত্ব পালনের স্মৃতি স্মরণ করেন মির্জা ফখরুল। দায়িত্ব পালনকালে কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তিনি সবার কাছে ক্ষমা চান। পাশাপাশি তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, দল তাকে যে মর্যাদা ও আস্থা দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তিনি তার সম্মান রক্ষা করবেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে কোনো ছাড় দেবেন না। বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের অভাব অনুভব করবেন জানিয়ে তিনি সবার শুভকামনা কামনা করেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই নির্বাচনে তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। সংসদ ভবনের নির্ধারিত কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সংসদে রাজনৈতিক শক্তির সমীকরণে মির্জা ফখরুল বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। প্রাথমিক হিসাবে তার পক্ষে ২৪৭ জন এবং অলি আহমদের পক্ষে ৯০ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন রয়েছে, যার ফলে মির্জা ফখরুলের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে বঙ্গভবনে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

গত ১৩ আগস্ট বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেয়। এরপর থেকেই তাঁর দলীয় দায়িত্ব ছেড়ে রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। টানা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছানো এবং দলটির প্রধান মুখপাত্র হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ার পর বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ দলীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে চলেছে।

 

 

ইত্তেফাক/এএম