নব্বই দশককে বলা হয় অডিও ইন্ডাস্ট্রির স্বর্ণযুগ। যে যুগে আইয়ুব বাচ্চু এসেছিলেন রাজা হয়ে। শ্রোতা তৈরি করেছেন রকঘরানার। রককে নিয়ে গেছেন শহর থেকে গ্রামের মাঠে প্রান্তরে। সেসময়ের অন্যতম গীতিকবি নিয়াজ আহমেদ অংশু। শুধু গীতিকবিতাই নয়। বরং ব্যান্ড অ্যালবামের প্রচ্ছদ কতটা আধুনিক হতে পারে, এই উপস্থাপনা দেখিয়েছেন তিনি। সবচেয়ে বড় কথা হলো অংশু ছিলেন আইয়ুব বাচ্চুর খুব কাছের, আদরের এক তরুণ। আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর পর প্রথম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দর্শক-শ্রোতাদের অনেকটা সারপ্রাইজ দেওয়ার মতোই অংশু তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করেছেন আইয়ুব বাচ্চুর একটি আনরিলিজড গান। তা নিয়েই নিজের আবেগাপ্লুত কিছু কথা লিখেছেন তিনি এবি ভক্তদের জন্য
যেন এক জন্মহীন নক্ষত্রের মতোই অনন্তকাল জেগে আছেন প্রিয় বাচ্চু ভাই। সোশ্যাল মিডিয়া, ইন্টারনেট, ইউটিউব কিংবা নিউজ কন্টেন্ট—সর্বত্র উনার উপস্থিতি সর্বক্ষণ আমাদের জানান দিয়ে যায় উনি আছেন, চিরটা কাল এভাবেই থাকবেন। দাপটের সঙ্গেই বিচরণ করবেন। যতদিন আমাদের হূদয়ে গান থাকবে, ততদিন। অতৃপ্তি একটাই, একজন আইয়ুব বাচ্চু আর কখনো গিটার কাঁধে স্টেজ মাতাবেন না। ব্যক্তি আইয়ুব বাচ্চু কিংবা কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু—দুজনই আমার কাছে এখন এক অতল স্মৃতির বাক্স। মাঝে মাঝেই আমি সেই বাক্সের ডালা খুলে স্মৃতি হাতড়ে ফিরি। ১৬ আগস্ট বাচ্চু ভাইয়ের জন্মদিন। এবার আর ফোন করা হলো না...। এখন উনার রেখে যাওয়া গানগুলোই আমাদের কাছে উনার অস্ত্বিত্ব, আলোকিত স্মৃতিচিহ্ন। একটা সময় আমার লেখা অনেক গান বাচ্চু ভাই সুর করেছেন। কোনো কোনো গান রেকর্ড করেও প্রকাশ করা হয়নি। ‘রাতের এ পিঠে আমার ঘরবাড়ি’ এমনই একটি গান। ১৯৯৭ সালে লেখা ও সুর, তারপর ১৯৯৮-তে রেকর্ড করা গানটায় অনেক পুরনো নস্টালজিক এক আইয়ুব বাচ্চুকে খুঁজে পাওযা যাবে। আমিও কখনো এই গানটা প্রকাশ করার ব্যাপারে সেভাবে মাথা ঘামাইনি, গানটার কিশোরসুলভ লেখনীর জন্য। কিন্তু একজন আইয়ুব বাচ্চু একবারই এসেছিলেন। আর তো আসবেন না। তাই তার এসব সৃষ্টি যদি স্মৃতির বাক্স থেকে একে একে আলোয় আসে ক্ষতি কী?
শুভ জন্মদিন বাচ্চু ভাই। শুভ জন্মদিন আইয়ুব বাচ্চু। শুভ জন্মদিন বস্। শুভ জন্মদিন রক লিজেন্ড, দ্য রিয়েল লিজেন্ড...
লেখক :গীতিকবি ও শিল্প নির্দেশক
