সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেটা তার প্ল্যাটফর্মগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে গোপনীয়তার নীতি অবলম্বন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন হুইসেলব্লোয়ার আরতুরো বেজার। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। মঙ্গলবার টেক জায়ান্টটির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এক ঐতিহাসিক মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি এই দাবি করেন।
মেটার সাবেক এই নিরাপত্তা প্রকৌশলী জুরিদের জানান, তাদের উদ্ভাবিত পণ্য শিশুদের ক্ষতি করতে পারে তা প্রতিষ্ঠানটি আগে থেকেই জানত। যৌন নিপীড়ক, সহিংস বা আপত্তিকর বিষয়বস্তুর সুপারিশের মাধ্যমে শিশুদের ক্ষতি হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ঊর্ধ্বতনদের বিষয়টি বারবার জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, আরতুরো বেজার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে অন্তত ১০০ বার পণ্যের ত্রুটি বিষয়ে অবহিত করেছিলেন। ২০২১ সালে জাকারবার্গ জনসমক্ষে দাবি করেছিলেন মেটা সুরক্ষার চেয়ে মুনাফাকে প্রাধান্য দেয় না, কিন্তু ইমেলের মাধ্যমে বেজার তাকে ক্ষতিকর কনটেন্টের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জানান যে ওই বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের দায়ের করা এই মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জর্জিয়াভিত্তিক আদালতে সাক্ষ্য দেন বেজার। মামলায় মেটার বিরুদ্ধে শিশুদের জন্য আসক্তিকর নকশা তৈরি করা এবং অভিভাবকদের সম্মতি ছাড়া ১৩ বছরের কম বয়সীদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি ২০২৩ সালে যৌথভাবে মামলাটি করে। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মেগান ও'নিল জানান, শিশুদের সুরক্ষায় মেটা নিজের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। বিচারক ইভন গঞ্জালেজ রজার্স ছয় সপ্তাহব্যাপী মামলাটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন, যেখানে জাকারবার্গ ও ইনস্টাগ্রাম প্রধান অ্যাডাম মোসেরির সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে মেটা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের আইনজীবী পল শমিট জানান, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে তারা নতুন মাধ্যম এনেছেন এবং ১৩ বছরের কম বয়সী ১০ লাখের বেশি অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

৭ লাখ ৫৬ হাজার কিশোর-কিশোরীর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল মেটা