ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক তারকা ফুটবলার রবার্তো কার্লোসের ইসলাম গ্রহণ নিয়ে সম্প্রতি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, অবশেষে তা নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। এ খবরকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে জানিয়ে দিয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই লেফটব্যাক।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গোল.কমের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিল তারকা তুরস্কের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে ব্যাপক জল্পনা ছড়িয়ে পড়ার পর সৌদি সংবাদপত্র ওকাজ-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে কথা বলেন।
রবার্তো বলেন, ইসলামের প্রতি আমার সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। আমার স্ত্রীকে নামাজ পড়তে দেখা চমৎকার লাগে। কিন্তু আমার ইসলাম গ্রহণ নিয়ে যে গুজব ছড়াচ্ছে, তা সত্য নয়।
এর আগে, বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, কয়েক সপ্তাহ আগে ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে দেখা করেছেন কার্লোস। পাশাপাশি অনলাইনে এমন কিছু ছবিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় একজন কাজির উপস্থিতিতে ইসলামিক রীতিতে বিয়ে সম্পন্ন হচ্ছে এবং সেখানে রবার্তো কার্লোসও আছেন। এতেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং ইসলামিক রীতিতে একজনকে বিয়ে করেছেন।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই লেফটব্যাক সম্প্রতি মরক্কোর ব্যবসায়ী সোহাইলা তাহিরির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ছবিগুলো দেখে মনে হতেই পারে, স্ত্রীর ধর্ম অনুসরণ করে তিনিও বুঝি মুসলিম হয়েছেন। পরে গুঞ্জনের জট ছাড়াতে সম্প্রতি এ বিষয়ে কথা বলেন রবার্তো কার্লোস।
বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে চলা আলোচনা প্রসঙ্গে কার্লোস ব্যাখ্যা করেন, ‘আমাদের বিয়ের অনুষ্ঠান একাধিক ধরনের হয়েছিল। আমরা পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাসের সঙ্গে মানানসই একটি অনুষ্ঠান করেছি, কারণ তারা ক্যাথলিক ধর্মের অনুসারী। এর পাশাপাশি আমার স্ত্রী ও তার মুসলিম বন্ধুদের জন্য আরেকটি অনুষ্ঠানও করা হয়েছিল।’
সাফল্যে পূর্ণ রবার্তো কার্লোস ফুটবল ক্যারিয়ারে ব্রাজিল জার্সিতে জিতেছেন ২০০২ বিশ্বকাপ, আগের আসরে রানার্সআপ। রিয়াল মাদ্রিদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লা লিগা, উয়েফা সুপার কাপ উৎসব করেছেন। ফুটবল মাঠে নিজের গতিময় ফ্রি-কিক ও সফল ক্যারিয়ারের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত কার্লোসের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের কমতি নেই। তবে তার নিজের এই স্পষ্ট বক্তব্যের পর ইসলাম গ্রহণ সংক্রান্ত সব গুঞ্জনের অবসান ঘটল।

